ক্রিকেটে ঘরের মাঠের সুবিধা যে কোনও দলের জন্যই বড় শক্তি। পরিচিত পরিবেশ, নিজেদের পছন্দের পিচ এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাড়তি সুবিধা—সবই রয়েছে নিউজিল্যান্ডের হাতে। কিন্তু ভারতের বিরুদ্ধে চলতি টি-টোয়েন্টি সিরিজে সেই সুবিধা কাজে লাগাতে পারছে না কিউয়িরা। পরপর তিনটি ম্যাচ জিতে সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নিয়েছে টিম ইন্ডিয়া। এবার চতুর্থ ম্যাচেও কি জয়ের ধারা বজায় রেখে নিউজিল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশের দিকে ঠেলে দেবে ভারত?
![]()
৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ভারত, চাপে নিউজিল্যান্ড
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে প্রথম তিনটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ভারত। ফলে সিরিজের ফলাফল ইতিমধ্যেই নিজেদের পক্ষে নিয়ে নিয়েছে শ্রেয়স আইয়ারের নেতৃত্বাধীন দল। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে খেলেও একের পর এক হারের মুখ দেখতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডকে।পরিচিত পিচ ও স্থানীয় আবহাওয়ার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় দলের ব্যাটিং এবং বোলিংয়ের সামনে দাঁড়াতে পারছে না কিউয়িরা। ভারতের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সই বুঝিয়ে দিচ্ছে, শুধু ঘরের মাঠের সুবিধা থাকলেই ম্যাচ জেতা যায় না।
ফার্গুসন ও হেনরিকে না পাওয়া বড় ধাক্কা
সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকার মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের সমস্যা আরও বাড়িয়েছে দুই গুরুত্বপূর্ণ পেসারের অনুপস্থিতি। লকি ফার্গুসন এবং ম্যাট হেনরি চোটের কারণে সিরিজের শেষ দুটি ম্যাচে খেলতে পারবেন না।ফলে ভারতের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপকে আটকানোর ক্ষেত্রে কিউয়ি বোলিং বিভাগের সামনে চ্যালেঞ্জ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে ভারতকে চাপে রাখার পরিকল্পনায় এই দুই বোলারের অভাব অনুভব করতে পারে নিউজিল্যান্ড।
ভারতের ব্যাটিংয়ে একাধিক ম্যাচ জেতানোর অস্ত্র
ভারতীয় দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হল ব্যাটিংয়ের গভীরতা এবং একাধিক আক্রমণাত্মক বিকল্প। অভিষেক শর্মার ঝোড়ো ব্যাটিং প্রতিপক্ষের বোলারদের শুরু থেকেই চাপে ফেলতে পারে। অন্যদিকে, বৈভব সূর্যবংশীর প্রতিভা নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে।তিলক ভার্মার কার্যকর ব্যাটিং এবং সঞ্জু স্যামসনের সম্ভাবনাও ভারতকে বাড়তি শক্তি জোগাচ্ছে। পাশাপাশি নীতীশ কুমার রেড্ডির মতো ক্রিকেটার দলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন।এই পরিস্থিতিতে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের শুধু কয়েকজন নির্দিষ্ট ব্যাটারকে আটকালে চলবে না। ভারতের গোটা ব্যাটিং অর্ডারকে নিয়ন্ত্রণে রাখাই হবে তাদের কাছে বড় পরীক্ষা।
বড় জুটি গড়তে পারলেই বাড়বে ভারতের সুবিধা
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দ্রুত রান তোলার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট ধরে রাখাও অত্যন্ত জরুরি। ভারতীয় ব্যাটাররা যদি নিজেদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করেন এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী বড় জুটি গড়তে পারেন, তাহলে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে ম্যাচে ফিরে আসা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।তবে ক্রিকেটে কোনও ম্যাচকেই আগেভাগে জিতে যাওয়া যায় না। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কাছেও নিজেদের পরিকল্পনা বদলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ রয়েছে। ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থন কাজে লাগিয়ে চতুর্থ ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্স করতে চাইবে তারা।
![]()
ফিটনেস ও ধারাবাহিকতা ভারতের বড় ভরসা
বিদেশের মাটিতে খেলতে গেলে দলের ক্রিকেটারদের ফিটনেস এবং নিয়মিত খেলার মতো অবস্থায় থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কঠিন পরিবেশেও ক্রিকেটাররা ফিট থাকলে দলের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়।ভারতের ক্ষেত্রে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও শৃঙ্খলা বজায় রাখা সাফল্যের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। তবে কোনও দলের শ্রেষ্ঠত্ব শুধুমাত্র প্রতিপক্ষের চোট বা অনুপস্থিতির উপর নির্ভর করে না। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে সম্মান বাঁচানোর লড়াই নিউজিল্যান্ডের
সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের সামনে লক্ষ্য শুধু একটি জয় পাওয়া নয়, বরং ঘরের মাঠে নিজেদের সম্মান পুনরুদ্ধার করা। ইডেন পার্কে দর্শকদের সমর্থন কিউয়ি ক্রিকেটারদের বাড়তি উৎসাহ দিতে পারে।অন্যদিকে, ভারত চাইবে নিজেদের জয়ের ছন্দ বজায় রেখে সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যেতে। ফলে চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের লক্ষ্য আলাদা হলেও লড়াই যে আকর্ষণীয় হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
![]()
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ইতিমধ্যেই ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে ভারত। নিজেদের মাঠে খেলা, পরিচিত পিচ এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সুবিধা পেয়েও টিম ইন্ডিয়ার সামনে কার্যত দিশেহারা নিউজিল্যান্ড। তার উপর শেষ দুই ম্যাচে লকি ফার্গুসন ও ম্যাট হেনরিকে না পাওয়ায় চাপে কিউয়ি শিবির। এবার চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের লক্ষ্য সিরিজে আধিপত্য বজায় রাখা, আর নিউজিল্যান্ডের সামনে সম্মান বাঁচানোর লড়াই।










