ভারতীয় রেলের যাত্রীদের জন্য ভ্রমণ বিমা সংক্রান্ত সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে। ৪৫ পয়সা প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভ্রমণ বিমা কভার পাওয়ার সুবিধা পিআরএস (PRS) সংরক্ষণ কাউন্টারেও চালু করার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর ফলে অনলাইনে টিকিট বুক না করে রেলস্টেশনের সংরক্ষণ কাউন্টার থেকে টিকিট কেনা যাত্রীরাও এই বিমার বিকল্প পেতে পারেন। যাত্রার সময় অতিরিক্ত আর্থিক সুরক্ষার সুযোগ দেওয়াই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। তবে কাউন্টারগুলিতে সুবিধাটির বাস্তবায়নের তারিখ ও প্রাপ্যতা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল সংখ্যক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। তাঁদের মধ্যে চাকরিজীবী, পড়ুয়া, প্রবীণ নাগরিক, ব্যবসায়ী এবং পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণকারী যাত্রীরাও রয়েছেন। বিশেষত দূরপাল্লার যাত্রার ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভ্রমণ বিমা অতিরিক্ত সুরক্ষার একটি বিকল্প হতে পারে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় টিকিট কাটার সময়ই বিমা নেওয়ার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। তবে সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে বিমা প্রকল্পের যোগ্যতা ও নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে।
এতদিন রেলের অনলাইন টিকিট বুকিংয়ের সময় ঐচ্ছিক ভ্রমণ বিমা বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল। পিআরএস সংরক্ষণ কাউন্টারেও এই সুবিধা চালু হলে অনলাইনে টিকিট বুক করতে অভ্যস্ত নন, এমন যাত্রীরাও উপকৃত হতে পারেন। গ্রামীণ এলাকা থেকে আসা যাত্রী এবং অনলাইন বুকিংয়ে সমস্যার মুখে পড়া ব্যক্তিরা কাউন্টার থেকেই বিমা সংক্রান্ত তথ্য জানতে পারবেন। তবে সংশ্লিষ্ট সংরক্ষণ কেন্দ্রে এই সুবিধা চালু রয়েছে কি না এবং কীভাবে তা বেছে নিতে হবে, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
মাত্র ৪৫ পয়সা প্রিমিয়ামে সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিমা কভারের কথা বলা হলেও, এই সম্পূর্ণ অর্থ সব ধরনের পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। বিমা পলিসিতে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুর্ঘটনা, মৃত্যু বা স্থায়ী অক্ষমতার মতো যোগ্য পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সুবিধা প্রযোজ্য হতে পারে। ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ভর করবে ঘটনার ধরন, পলিসির শর্ত এবং বিমা পাওয়ার যোগ্যতার ওপর। তাই টিকিট কাটার সময় বিমার নিয়ম ও শর্ত ভালোভাবে জেনে নেওয়া জরুরি।
ভ্রমণ বিমা সাধারণত একটি ঐচ্ছিক সুবিধা। ফলে বিমা বেছে নেওয়ার আগে যাত্রীদের প্রিমিয়ামের পরিমাণ, কোন কোন পরিস্থিতিতে বিমার সুবিধা প্রযোজ্য হবে এবং দাবি জানানোর জন্য কী কী নথি প্রয়োজন, তা জেনে নেওয়া উচিত। দুর্ঘটনা ঘটলে বিমা সংস্থার নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে দাবি জানানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
মুজফ্ফরপুর-সহ বিহারের বিভিন্ন রেলস্টেশন থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্যও এই তথ্য প্রাসঙ্গিক। সংরক্ষণ কাউন্টার থেকে টিকিট কেনার সময় তাঁরা রেলকর্মীদের কাছে বিমার প্রাপ্যতা, প্রিমিয়াম এবং পলিসির শর্ত সম্পর্কে জানতে পারেন। এর মাধ্যমে নিজেদের প্রয়োজন ও যাত্রার পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
রেলের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে টিকিট বুকিংয়ের সময় ভ্রমণ বিমার বিকল্প আরও বেশি যাত্রীর কাছে পৌঁছতে পারে। তবে পিআরএস কাউন্টারগুলিতে সুবিধাটি চালুর তারিখ, সমস্ত কেন্দ্রে এর প্রাপ্যতা এবং সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকার বিমা কভারের বিস্তারিত শর্ত সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সরকারি রেলওয়ে বিজ্ঞপ্তি অথবা সংশ্লিষ্ট বিমা প্রদানকারীর তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।











