ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রি এবং ক্রমবর্ধমান তেলের দামের চাপে একসময় চরম দুর্বল হয়ে পড়েছিল ভারতীয় মুদ্রা। তবে আচমকাই পরিস্থিতি বদল। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের এক সিদ্ধান্তে রুপির দরে এসেছে চমকপ্রদ উত্থান, যা গত এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে অন্যতম বড় পরিবর্তন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধ আবহে টাকার ধস
Iran ও Israel-এর মধ্যে উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে মার্চ মাসে ভারতীয় টাকার দর নেমে গিয়েছিল প্রায় ৯৪.৮৩-এ। এমনকি একসময় তা ৯৫-এর সীমাও ছুঁয়ে ফেলে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ায়।
১২ বছরে সবচেয়ে বড় উত্থান
হঠাৎ করেই পরিস্থিতি ঘুরে যায়। মার্কিন ডলারের বিপরীতে রুপির দর একদিনে প্রায় ১৫৬ পয়সা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৯৩.১৪-এ (অস্থায়ী)। এটি গত ১২ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় একদিনের উত্থান হিসেবে ধরা হচ্ছে।
RBI-এর সিদ্ধান্তেই বদল খেল
Reserve Bank of India ব্যাঙ্কগুলির ডলার ধারণের সীমা (Net Open Position) কমিয়ে দেয়। এর ফলে ব্যাঙ্কগুলিকে বাধ্য হয়ে ডলার বিক্রি করতে হয়, যা বাজারে রুপির চাহিদা বাড়িয়ে দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্তই টাকার শক্তি ফেরানোর মূল কারণ।
ডলার সূচক ও তেলের দামে চাপ
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার সূচক ১০০-এর উপরে পৌঁছেছে। পাশাপাশি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল প্রতি প্রায় ১০৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দুই ফ্যাক্টরই ভবিষ্যতে আবার রুপির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা।
এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থির। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইতিমধ্যেই রুপি প্রায় ১০% দুর্বল হয়েছে। ফলে এই উত্থান স্থায়ী হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের বাজার পরিস্থিতির উপর।
আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও তেলের দামের চাপে দুর্বল হয়েছিল ভারতীয় টাকা। তবে Reserve Bank of India-এর কড়া পদক্ষেপে হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে উঠেছে রুপি। বর্তমানে ১ ডলারের বিপরীতে টাকার দর বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।













