দেশীয় শেয়ারবাজার বৃহস্পতিবার ইতিবাচক সূচনার মাধ্যমে লেনদেন শুরু করেছে। বৈশ্বিক বাজার থেকে মিশ্র সংকেত পাওয়া সত্ত্বেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা, অপরিশোধিত তেলের দামের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং প্রধান ব্লু-চিপ কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপের কারণে প্রাথমিক লেনদেনে বাজার ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
প্রাথমিক লেনদেনে বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE)-এর প্রধান সূচক সেনসেক্স ২০১ পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৭৮,৭৮২ পয়েন্টে পৌঁছায়। একই সময়ে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE)-এর নিফটি ৫০ সূচকও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে প্রায় ২৪,৬৪১ পয়েন্টের আশপাশে লেনদেন করছিল।
বাজারের প্রাথমিক ঊর্ধ্বগতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে সামান্য পতন তার মধ্যে অন্যতম। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল আমদানিকারক হওয়ায় তেলের দামের নিম্নগতি অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া Reliance Industries, Titan এবং অন্যান্য বড় কোম্পানির শেয়ারে ক্রয়চাপ প্রধান সূচকগুলিকে সমর্থন দিয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এমন কোম্পানির শেয়ারে আগ্রহ দেখিয়েছেন, যেগুলির আয় ও প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা শক্তিশালী বলে বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতীয় শেয়ারবাজারে সম্প্রতি চালু হওয়া ক্লোজিং অকশন সেশন (CAS) ব্যবস্থার ওপরও বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। এই ব্যবস্থা ফিউচার্স অ্যান্ড অপশনস (F&O) লেনদেন হওয়া শেয়ারের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর উদ্দেশ্য শেয়ারের ক্লোজিং মূল্য আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে নির্ধারণ করা।
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রক্রিয়ার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে সূচক এবং কিছু শেয়ারে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা যেতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি বাজারের বিশ্বাসযোগ্যতা বৃদ্ধি করবে।
শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বগতির মধ্যেও বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপি সামান্য দুর্বল হয়েছে। প্রাথমিক লেনদেনে রুপি প্রায় ৭ পয়সা কমে প্রতি ডলারে ৯৫.১৫ স্তরে পৌঁছায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারের গতিবিধি, মার্কিন অর্থনৈতিক তথ্য এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FIIs) কৌশল রুপির গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তবে রুপির এই পতন সীমিত ছিল।
প্রাথমিক লেনদেনে একাধিক বড় কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। বিশেষ করে ভোক্তা, ব্যাংকিং এবং শিল্প খাতের কোম্পানিগুলিতে ক্রয়চাপ লক্ষ্য করা যায়।
ঊর্ধ্বগতিতে থাকা প্রধান শেয়ারের মধ্যে ছিল Titan Company, Reliance Industries, Bharat Electronics Limited (BEL), State Bank of India (SBI), Asian Paints এবং Eternal।
অন্যদিকে Power Grid, Trent, Mahindra & Mahindra (M&M) এবং Axis Bank-এর শেয়ারে প্রাথমিক লেনদেনে চাপ দেখা যায়।
আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম সামান্য কমে প্রায় ৭৯.৩৫ মার্কিন ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন হচ্ছিল।
তেলের দামের নিম্নগতি ভারতের মতো আমদানিনির্ভর দেশের জন্য ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হয়। এর ফলে আমদানি ব্যয় কমানো, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং চলতি হিসাবের ভারসাম্য উন্নত করতে সহায়তা মিলতে পারে।
জ্বালানি ব্যয়ের সম্ভাব্য হ্রাসের সুফল বিভিন্ন শিল্প ও ভোক্তাদের কাছে পৌঁছাতে পারে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করতে পারে।
বাজারের ইতিবাচক সূচনার পেছনে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংক (RBI)-এর সাম্প্রতিক মুদ্রানীতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক টানা চতুর্থবারের মতো রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে RBI তাদের নীতিগত অবস্থান "নিউট্রাল" রেখেছে, যা নির্দেশ করে যে ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির তথ্যের ভিত্তিতে নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক চলতি অর্থবছরের জন্য ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির (GDP Growth) পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৭ শতাংশ করেছে। একই সঙ্গে খুচরা মূল্যস্ফীতির (Inflation) পূর্বাভাস কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে।









