পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে আইসিসি ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ (WTC) ২০২৫-২৭ চক্রে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে পাকিস্তান। এই জয়ের মাধ্যমে দলটি শুধু বিদেশের মাটিতে টানা পরাজয়ের দীর্ঘ ধারাই থামায়নি, পাশাপাশি WTC পয়েন্ট তালিকায়ও এক ধাপ এগিয়েছে।
ম্যাচের চতুর্থ দিনে জয়ের জন্য পাকিস্তানের লক্ষ্য ছিল ৭৫ রান। দলটি মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করে। এই জয়ের ফলে পাকিস্তান WTC পয়েন্ট তালিকায় নিচের দিক থেকে এক ধাপ উপরে উঠে আসে, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ এক ধাপ নিচে নেমে যায়।
এই ম্যাচের আগে পাকিস্তান ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ২০২৫-২৭ পয়েন্ট তালিকার নবম ও শেষ স্থানে ছিল। দলের জয় শতাংশ (PCT) ছিল খুবই কম এবং ধারাবাহিক খারাপ পারফরম্যান্সের কারণে তারা অন্য দলগুলোর পিছিয়ে ছিল। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়ের পর পাকিস্তান ২২.২২ শতাংশ জয় শতাংশ নিয়ে অষ্টম স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে গেছে নবম স্থানে।
বর্তমান পয়েন্ট তালিকায় অস্ট্রেলিয়া শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। দলটি প্রাথমিক ম্যাচগুলোতে ৮৭.৫০ শতাংশ জয় শতাংশ অর্জন করেছে। ভারত ৪৮.১৫ শতাংশ জয় শতাংশ নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ভারতীয় দল এখন পর্যন্ত নয়টি টেস্টে চারটি জয় পেয়েছে এবং আগামী ম্যাচগুলোতে আরও ভালো ফল করে শীর্ষ চারে ওঠার চেষ্টা করবে।
পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটে হারিয়ে WTC পয়েন্ট তালিকায় এক ধাপ এগোল পাকিস্তান

এই জয় পাকিস্তানের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দলটি দীর্ঘদিন ধরে বিদেশের মাটিতে সংগ্রাম করছিল। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে বিদেশের মাটিতে টানা আটটি টেস্টে হারের ধারার অবসান ঘটেছে।
পাকিস্তানের জয়ে সবচেয়ে বড় অবদান রাখেন ওপেনার আবদুল্লাহ শফিক। তিনি প্রথম ইনিংসে অপরাজিত ১৬০ রান করেন। ৩৩৩ বলের এই ইনিংসে তিনি ১৫টি চার ও তিনটি ছক্কা মারেন। এই ইনিংসের সুবাদে পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়।
এই পারফরম্যান্সের জন্য শফিককে ম্যাচসেরা (প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ) নির্বাচিত করা হয়। এছাড়া, তিনি প্রায় পাঁচ দশক পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে ১৫০-এর বেশি রান করা প্রথম পাকিস্তানি ব্যাটার হন।
পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম তৃতীয় উইকেটে ১৮৩ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন। এই জুটি দলকে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে বড় স্কোর গড়তে সহায়তা করে। বাবর আজম ১৪৭ বলে ৮৮ রান করেন। তিনি শতরান থেকে বঞ্চিত হয়ে রান আউট হন, তবে তার ইনিংস পাকিস্তানের অবস্থান শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
দ্বিতীয় ইনিংসেও বাবর আজম ও আবদুল্লাহ শফিক সংযত ব্যাটিং করেন এবং লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দুজনই অপরাজিত ২৪ রান করে থাকেন।
ম্যাচের তৃতীয় দিনে বোলারদের দাপট দেখা যায়। সেদিন মোট ১৪টি উইকেট পড়ে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্পিনার জোমেল ওয়ারিকান দুর্দান্ত বোলিং করে ছয়টি উইকেট নেন।








