সিন্ধু জল চুক্তি ঘিরে ভারত-পাকিস্তান টানাপড়েন নতুন মোড় নিল। পাকিস্তান যখন ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছে, তখন সেই আদালতের নির্দেশকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল ভারত। ভারতের দাবি, সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারই নেই এই বিষয়ে, ফলে কোনও নথি জমা দেওয়ার প্রশ্ন ওঠে না।
কোন আদালতের নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করল ভারত?
নেদারল্যান্ডসের হ্যাগে অবস্থিত স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA) ভারতের কাছে জম্মু ও কাশ্মীরের বাগলিহার ও কিষাণগঙ্গা জলবিদ্যুৎ প্রকল্প সংক্রান্ত কার্যক্ষম তথ্য চেয়েছিল। আদালতের নির্দেশ ছিল, এই প্রকল্পগুলির নকশা ও প্রযুক্তিগত বিবরণ জমা দিতে হবে।তবে ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে—এই আদালতকে তারা কখনও স্বীকৃতি দেয়নি, ফলে নির্দেশ মানার প্রশ্নই ওঠে না।
ভারতের যুক্তি কী?
ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী,
সিন্ধু জল চুক্তি বর্তমানে স্থগিত অবস্থায় রয়েছে
চুক্তি কার্যকর না থাকলে তার আওতায় গঠিত কোনও সালিশি ব্যবস্থারও আইনি ভিত্তি থাকে না
ফলে আদালতের আদেশ ভারতের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়
বিদেশ মন্ত্রকের মতে, এই ধরনের নির্দেশ অযৌক্তিক এবং একতরফা।
পাকিস্তানের কৌশল ও পাল্টা চাপ
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তান আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করছে। জল বন্ধের অভিযোগ তুলে তারা আদালতে অভিযোগ দায়ের করে। পাকিস্তানের দাবি, ভারতের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলি চুক্তি লঙ্ঘন করছে।তবে ভারত একে সরাসরি কূটনৈতিক চক্রান্ত বলে অভিহিত করেছে।
কেন স্থগিত হল সিন্ধু জল চুক্তি?
২০২৫ সালের এপ্রিলে জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন অসামরিক নাগরিক নিহত হন। ভারত দাবি করে, এই হামলার নেপথ্যে পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠন রয়েছে।
এরপরই নয়াদিল্লি কড়া বার্তা দিয়ে জানায়—
“সন্ত্রাসবাদ এবং জল কূটনীতি একসঙ্গে চলতে পারে না।”
এই অবস্থান থেকেই সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করা হয়।
কী এই সিন্ধু জল চুক্তি?
১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয় সিন্ধু জল চুক্তি।
চুক্তি অনুযায়ী—
ভারত পায় রাভি, বিয়াস ও শতদ্রু নদীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ
পাকিস্তান ব্যবহার করে সিন্ধু, ঝিলাম ও চেনাব নদীর জল
ভারত সীমিত অ-ভোগ্য কাজে (যেমন জলবিদ্যুৎ) পশ্চিমের নদীগুলি ব্যবহার করতে পারে
বর্তমানে ভারত এই চুক্তির আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো মানতে নারাজ।
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিতের পর পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেও, সেই আদালতের নির্দেশ মানতে অস্বীকার করেছে ভারত। নয়াদিল্লির স্পষ্ট বক্তব্য—এই আদালতকে তারা স্বীকৃতি দেয় না, ফলে নথি দাখিলের কোনও বাধ্যবাধকতাও নেই।










