কিছু শূন্যতা সময়ের সঙ্গে ভরে না—বরং আরও গভীর হয়। সোনালি চক্রবর্তীর প্রয়াণের ঠিক কয়েক দিনের মধ্যেই সেই বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছিলেন অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী। ফেসবুকে স্ত্রীর একটি পুরনো হাসিমাখা ছবি পোস্ট করে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, ভালোবাসা চলে যায় না, শুধু রূপ বদলায়—স্মৃতি হয়ে।
সাত দিনের শোক, কলমে ধরা পড়া কান্না
স্ত্রীকে হারানোর সাতদিন পরেই শঙ্কর চক্রবর্তী লিখেছিলেন এমন কিছু শব্দ, যা পড়লে থমকে যায় পাঠক। তাঁর লেখায় ছিল না অতিরিক্ত কথা, ছিল শুধু একটুকরো হাহাকার—
“এই তো সেদিনও তুমি ছিলে… ওই হাসিমুখ আর দেখতে পাব না।”
এই একটি বাক্যেই ধরা পড়ে যায় এক জীবনের সঙ্গী হারানোর অসহায় যন্ত্রণা।
একটি ছবি, হাজার স্মৃতি
যে ছবিটি শেয়ার করেছিলেন শঙ্কর, সেটি ছিল চার বছর আগের। হাসিখুশি সোনালি, চোখে জীবনের আলো। সেই ছবিই যেন আজ তাঁর সবচেয়ে বড় যন্ত্রণা—কারণ ছবির হাসি আছে, মানুষটি নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই মুহূর্তে ভিজে ওঠে অগণিত ভক্তের চোখ।
পর্দার জুটি, জীবনের সঙ্গী
শঙ্কর ও সোনালি চক্রবর্তী—বাংলা টেলিভিশনের এক পরিচিত জুটি। পর্দার বাইরেও ছিল তাঁদের নির্ভরতার সংসার। সুখ-দুঃখ মিলিয়ে কাটছিল জীবন। সেই পথচলার হঠাৎ ইতি ঘটে ২০২২ সালের ৩১ অক্টোবর ভোরে।
দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে থেমে যাওয়া জীবন
দীর্ঘদিন ধরেই একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন সোনালি চক্রবর্তী। শেষ পর্যন্ত বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে ভোর ৪টা ০৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। চিকিৎসার লড়াই শেষ হলেও, শুরু হয়ে যায় শঙ্করের আজীবনের শোকযাত্রা।
দীপাবলির আলো নিভে যাওয়ার আগের দিন
প্রয়াণের ঠিক কিছুদিন আগেই দীপাবলির একটি ছবি পোস্ট করেছিলেন শঙ্কর। লিখেছিলেন—ফুলঝুরি জ্বালানোর কথা। তখনও কি তিনি জানতেন, কয়েক দিনের মধ্যেই সেই আলোর সব রং মিলিয়ে যাবে অন্ধকারে? সময় কখন যে সবকিছু বদলে দেয়, তার কোনও পূর্বাভাস থাকে না।
স্ত্রী সোনালি চক্রবর্তীর প্রয়াণের যন্ত্রণা আজও বয়ে চলেছেন অভিনেতা শঙ্কর চক্রবর্তী। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাগ করে নেওয়া এক হাসিমাখা ছবির সঙ্গে তাঁর লেখা কয়েকটি শব্দ যেন জমাট বাঁধা কান্নার ভাষা হয়ে উঠেছে। শূন্যতার মধ্যেও স্মৃতিই এখন তাঁর একমাত্র সঙ্গী।













