শিবভক্তদের কাছে মহাশিবরাত্রি মানেই বিশেষ এক রাত। সেই রাতকে কেন্দ্র করেই বীরভূমের প্রাচীন তীর্থক্ষেত্র বক্রেশ্বর ধামে এখন সাজ সাজ রব। পুণ্য তিথি, মেলা, সারারাত পুজোর সুযোগ—সব মিলিয়ে মহাশিবরাত্রি ২০২৬-এ বক্রেশ্বর হয়ে উঠতে চলেছে ভক্তি ও বিশ্বাসের এক বিশাল মিলনক্ষেত্র।
কবে শুরু শিব চতুর্দশী তিথি? জানুন নির্ঘণ্ট
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরে ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) বিকেল ৪টা ৪৮ মিনিটে শুরু হচ্ছে শিব চতুর্দশী তিথি। এই পুণ্য সময় বজায় থাকবে ১৬ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বিকেল ৪টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত। এই পুরো সময় জুড়েই বক্রেশ্বর ধামে শিবপুজো ও দর্শনের জন্য ভক্তদের ঢল নামবে।
সারারাত খোলা থাকবে গর্ভগৃহ
দূরদূরান্ত থেকে আসা পুণ্যার্থীদের কথা মাথায় রেখে শিবরাত্রির রাতে সারারাত মন্দির ও গর্ভগৃহ খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যাতে ভক্তরা সুশৃঙ্খলভাবে পুজো দিতে পারেন, সেই জন্য বিশেষ প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।
প্রাচীন ঐতিহ্যের শিবরাত্রি মেলা
বক্রেশ্বরের শিবরাত্রি মেলা বহু শতাব্দী প্রাচীন। বর্তমানে এই মেলার দায়িত্বে রয়েছে বীরভূম জেলা পরিষদ। সরকারি ভাবে মেলা পাঁচ দিনের হলেও ভিড় ও চাহিদা অনুযায়ী তা ৬ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। মেলাকে ঘিরে থাকছে পাঁচ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
ভোগে থাকছে বিশেষ নিয়ম
মহাশিবরাত্রির দিন বক্রেশ্বরে মহাদেবের পরমান্ন ভোগ বন্ধ থাকে। পরিবর্তে ভক্তদের পক্ষ থেকে নিবেদন করা হয় কাঁচা সন্দেশ। পাশাপাশি পানীয় জল, আলো ও প্রাথমিক পরিষেবার বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
কড়া নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ
লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বীরভূম জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নেওয়া হচ্ছে কড়া ব্যবস্থা। মন্দির সেবাইত উন্নয়ন কমিটির একটি বিশেষ দল পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। দ্রুত দর্শন ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।
মহাশিবরাত্রি ২০২৬ উপলক্ষে বীরভূমের বক্রেশ্বর ধামে শুরু হয়েছে জোরদার প্রস্তুতি। লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম সামলাতে মন্দির সারারাত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে পুণ্য তিথি ও ঐতিহ্যবাহী মেলা, থাকছে বিশেষ নিরাপত্তা ও সাংস্কৃতিক আয়োজন।








