I-PAC কাণ্ডে তদন্তের পরিধি আরও বিস্তৃত। সল্টলেক সেক্টর-5-এ অবস্থিত তৃণমূল কংগ্রেসের পরামর্শদাতা সংস্থা I-PAC-এর অফিসে ইডি অভিযানের সময়কার ঘটনার খুঁটিনাটি জানতে দুই কর্মী ও এক নিরাপত্তারক্ষীর বয়ান রেকর্ড করল পুলিশ।
ইডি কখন ঢুকেছিল, কী বলেছিল—সব জানতে চায় পুলিশ
পুলিশ সূত্রের খবর, ইডি অফিসে ঢোকার সময় ঠিক কোন সময়ে এসেছিল, কার সঙ্গে কথা বলেছিল, কী নির্দেশ দিয়েছিল এবং ভেতরে কী কী ঘটনা ঘটেছে—এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর জানতে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। প্রতিটি মুহূর্তের টাইমলাইন মিলিয়ে দেখার চেষ্টা চলছে।
সল্টলেক অফিস ও লাউডন স্ট্রিটে একযোগে তল্লাশি
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকালে দিল্লি থেকে আসা ইডির একটি বিশেষ দল সল্টলেক সেক্টর-5-এর I-PAC অফিসে হানা দেয়। একই সঙ্গে সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়।
কয়লাপাচার মামলার সূত্রেই অভিযান
ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লিতে নথিভুক্ত কয়লাপাচার সংক্রান্ত একটি পুরনো মামলার তদন্তে কিছু আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে I-PAC-এর নাম উঠে আসে। সেই কারণেই এই অভিযান বলে দাবি তদন্তকারী সংস্থার।
অভিষেকের বিস্ফোরক অভিযোগ
ইডি অভিযানের পর মিলনমেলা প্রাঙ্গনে ডিজিটাল কনক্লেভে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন,তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, কয়লাকাণ্ডে দীর্ঘদিন সমন না পাঠিয়ে হঠাৎ এমন অভিযান কেন?
কেন শুধু কলকাতা? উঠছে প্রশ্ন
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যুক্তি দেন, I-PAC-এর তিনজন ডিরেক্টর তিন শহরে থাকেন—কলকাতা, হায়দরাবাদ ও দিল্লিতে। তা হলে কেন শুধু কলকাতার অফিসেই অভিযান? অন্য রাজ্যের অফিসগুলিতে ইডি যায়নি কেন—এই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা
এই ঘটনার পর রাজ্যের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করেছে ইডি। একটি মামলা ইডির তরফে এবং অন্যটি ইডির তিন আধিকারিকের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। দুই মামলাতেই রাজ্য সরকার, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সল্টলেক সেক্টর-5-এ I-PAC অফিসে ইডি অভিযানের ঘটনার প্রেক্ষিতে দুই কর্মী ও এক নিরাপত্তারক্ষীর বয়ান রেকর্ড করল পুলিশ। অভিযানের সময় কী ঘটেছিল, কারা কী বলেছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।










