শিলিগুড়ি: জন্মাষ্টমী এলেই ঘরে ঘরে শুরু হয়ে যায় শ্রীকৃষ্ণের আরাধনার প্রস্তুতি। কেউ উপবাস করেন, কেউ ফলাহার করেন, আবার কোথাও তৈরি হয় নানা ধরনের প্রসাদ। নেপালি হিন্দু পরিবারগুলির জন্মাষ্টমী উদযাপনের মধ্যেও রয়েছে নিজস্ব সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকার পরিবারগুলিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা কিছু খাবার এই উৎসবের আয়োজনকে আলাদা মাত্রা দেয়।
জন্মাষ্টমীর পাতে সেল রুটি
নেপালি পরিবারের ঐতিহ্যবাহী খাবারের তালিকায় অন্যতম সেল রুটি। চাল ভিজিয়ে বেটে তার সঙ্গে চিনি বা গুড়, সামান্য ঘি, এক চিমটি নুন এবং প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে তৈরি করা হয় এর ব্যাটার।এরপর গরম তেল বা ঘিয়ের মধ্যে গোল করে ব্যাটার ঢেলে ভাজা হয়। দুই দিক ভালোভাবে সোনালি ও মুচমুচে হয়ে গেলেই তৈরি হয়ে যায় সুস্বাদু সেল রুটি। জন্মাষ্টমীর বিশেষখাবার হিসেবে অনেক পরিবারে এর আলাদা গুরুত্ব রয়েছে।
পাহাড়ি ঘরানার ক্ষীরেও উৎসবের ছোঁয়া
জন্মাষ্টমীর প্রসাদে দুধজাত খাবারের গুরুত্ব রয়েছে। তাই নেপালি পরিবারে অনেক সময় তৈরি করা হয় পাহাড়ি ধাঁচের ক্ষীরও। দুধ, চাল, চিনি বা গুড়, এলাচ এবং কাজু-কিশমিশ দিয়ে তৈরি এই পদ বেশ ঘন ও সুগন্ধি হয়।প্রথমে দুধ ভালো করে জ্বাল দিয়ে কিছুটা ঘন করা হয়। তারপর তাতে চাল দিয়ে কম আঁচে রান্না করতে হয়। চাল নরম হয়ে এলে চিনি বা গুড়, এলাচ ও শুকনো ফল দিয়ে আরও কিছুক্ষণ ফুটিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় উৎসবের ক্ষীর।
চিউরা-দই, সহজেই তৈরি হয় প্রসাদ
খুব কম সময়ে তৈরি করা যায় চিউরা-দই। চিউরা অর্থাৎ চিঁড়ে, ঘন দই এবং গুড় বা চিনি দিয়েই মূলত এই পদ তৈরি হয়। চাইলে এর সঙ্গে কলা বা অন্যান্য ফলও যোগ করা যায়।চিঁড়েকে সামান্য জল দিয়ে নরম করে অতিরিক্ত জল ঝরিয়ে নিতে হয়। এরপর দই ও গুড় মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যায় এই সহজ অথচ সুস্বাদু পদ। উপবাসের নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপকরণ বেছে নেওয়া যেতে পারে।
উপবাসেও থাকে দুধ-দইয়ের আয়োজন
জন্মাষ্টমীর দিন অনেকেই উপবাস পালন করেন। সেই কারণে পরিবারের রীতি অনুযায়ী ফল, দুধ, দই ও মাখনের মতো খাবারও রাখা হয়। কোথাও আবার উপবাসের নিয়ম মেনে হালকা খাবারের আয়োজন করা হয়।অর্থাৎ, জন্মাষ্টমীর খাবারের তালিকা শুধু স্বাদের বিষয় নয়—এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পারিবারিক রীতি এবং ধর্মীয় আচারও।
খাবারের মধ্যেই বেঁচে থাকে ঐতিহ্য
শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের নেপালি পরিবারগুলিতে জন্মাষ্টমী তাই শুধুমাত্র পুজোর দিন নয়। এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা খাবারগুলিও পরিবারের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসা রান্নার পদ্ধতি এবং খাবারের তালিকা উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
জন্মাষ্টমী মানেই কৃষ্ণপুজো, উপবাস এবং নানা ধরনের প্রসাদ। তবে শিলিগুড়ি ও দার্জিলিংয়ের নেপালি হিন্দু পরিবারগুলিতে এই উৎসবের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেশ কিছু নিজস্ব খাদ্য-ঐতিহ্য। সেল রুটি, পাহাড়ি ক্ষীর এবং চিউরা-দইয়ের মতো ঘরোয়া পদে সাজে উৎসবের খাবারের আয়োজন।













