‘প্যায়ার কিয়া তো ডরনা কেয়া’—এই সংলাপ যেন বাস্তব হয়ে উঠল উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরে। যেখানে পরকীয়া, বিচ্ছেদ বা হিংসার বদলে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়ে, নিজে সামনে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ করলেন স্বামী। এই নজিরবিহীন ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তোলপাড় গোটা এলাকা।
দাম্পত্য থেকে দূরত্ব, তারপর নতুন প্রেম
জৌনপুর জেলার জলালপুর এলাকার বাসিন্দা পম্পি প্রজাপতির বিয়ে হয়েছিল ২০২২ সালে তনজয় প্রজাপতির সঙ্গে। বিয়ের পর তাঁদের একটি পুত্রসন্তানও হয়, যার বর্তমান বয়স প্রায় তিন বছর। প্রথমদিকে সংসার স্বাভাবিক থাকলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। এই সময়েই পম্পির পরিচয় হয় রাজু বৈরাগীর সঙ্গে, যা ধীরে ধীরে প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়।
বাড়ি ছেড়ে প্রেমিকের সঙ্গে চলে যাওয়া
কিছুদিন পর পম্পি প্রেমিক রাজু বৈরাগীর সঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই পরিবার ও সমাজে শুরু হয় চর্চা। অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার বুঝি আইনি লড়াই বা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেবে। কিন্তু ঘটল ঠিক তার উল্টোটা।
অশান্তির বদলে বোঝাপড়ার পথ বেছে নিলেন স্বামী
স্ত্রীর পরকীয়ায় ক্ষোভ বা প্রতিশোধের পথে না হেঁটে, তনজয় প্রজাপতি বেছে নেন শান্তিপূর্ণ সমাধানের রাস্তা। তিনি স্পষ্ট জানান, পম্পি যদি রাজুর সঙ্গে সুখী হতে চায়, তবে তিনি বাধা দেবেন না। এই সিদ্ধান্তই পুরো ঘটনাকে অন্য মাত্রা দেয়।
মন্দিরে বিয়ে, সামনে দাঁড়িয়ে আশীর্বাদ স্বামীর
তিনজনের সম্মতিতে ঠিক হয়, পম্পি ও রাজু মন্দিরে বিয়ে করবেন। বিয়ের দিনে সবচেয়ে অবাক করা মুহূর্ত আসে তখনই—যখন স্বামী তনজয় নিজে উপস্থিত থেকে প্রেমিক রাজুকে স্ত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর দিতে দেখেন এবং কোনও আপত্তি না জানিয়ে নতুন দম্পতিকে আশীর্বাদ করেন। এই দৃশ্য দেখে হতবাক উপস্থিত সকলেই।
ছেলের দায়িত্ব নিলেন বাবা
এই সম্পর্কের সমাপ্তি টানলেও দায়িত্ব এড়াননি তনজয়। সিদ্ধান্ত হয়, তাঁদের তিন বছরের ছেলে বাবার সঙ্গেই থাকবে। সন্তানের ভবিষ্যৎ যাতে নিরাপদ ও স্থিতিশীল থাকে, সেই দায়িত্ব নিজে কাঁধে তুলে নেন তনজয়। অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে বাবার নিঃস্বার্থ ভালোবাসার বড় উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।
সমাজে বিতর্ক—ত্যাগ না মূল্যবোধের অবক্ষয়?
এই ঘটনা একদিকে যেমন সামাজিক রীতিনীতির বাইরে, তেমনই অন্যদিকে পারস্পরিক সম্মতি, সম্মান ও দায়িত্ববোধের বিরল দৃষ্টান্ত। কেউ বলছেন, এটি সম্পর্কের নতুন সংজ্ঞা। আবার কেউ প্রশ্ন তুলছেন পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে।
ভাঙন, বিশ্বাসঘাতকতা আর ত্যাগ—সব মিলিয়ে সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে উত্তরপ্রদেশের জৌনপুরের এই ঘটনা। স্ত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে সমাজে আলোড়ন ফেলে দিলেন স্বামী নিজেই।











