শীত এলেই বাজার ভরে ওঠে রঙিন সবজি আর টাটকা ফলের সম্ভারে। এই মরসুমে স্বাদ আর পুষ্টি—দু’দিক থেকেই বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। সাধারণত প্রোটিনের কথা উঠলেই মুসুর ডাল, ছোলা, দুধ কিংবা বাদামের নাম উঠে আসে। কিন্তু অনেকেই জানেন না, একটি নির্দিষ্ট ফলেও থাকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ প্রোটিন, যা শীতকালে শরীর সুস্থ রাখতে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
ফলের মধ্যে প্রোটিনে সেরা কোনটি?
পুষ্টিবিদদের মতে, ফলের জগতে প্রোটিনের দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে পেয়ারা। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারায় প্রায় ২.৫ থেকে ২.৬ গ্রাম প্রোটিন থাকে। আপেল, কলা, কমলালেবু বা আঙুরের তুলনায় এই পরিমাণ যথেষ্ট বেশি, যা একটি ফলের ক্ষেত্রে নজরকাড়া।
অন্য ফলের সঙ্গে তুলনা করলে কোথায় দাঁড়ায় পেয়ারা?
অ্যাভোকাডো, কিউই কিংবা ডালিমেও অল্প পরিমাণে প্রোটিন রয়েছে।
অ্যাভোকাডো: স্বাস্থ্যকর ফ্যাটে ভরপুর
কিউই ও ডালিম: অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস
তবে সহজলভ্যতা, দাম ও সামগ্রিক পুষ্টিগুণের নিরিখে পেয়ারাই সাধারণ মানুষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী বিকল্প বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
টিনের বাইরেও পেয়ারার পুষ্টিগুণ
পেয়ারা শুধু প্রোটিনেই নয়—
ফাইবার
ভিটামিন C
পটাসিয়াম
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
এই সবকিছুতেই সমৃদ্ধ। শীতকালে যখন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলকভাবে দুর্বল থাকে, তখন পেয়ারা শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।
নিরামিষাশীদের জন্য কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
প্রোটিন পেশি গঠন, টিস্যু মেরামত এবং ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী রাখতে অপরিহার্য। যাঁরা নিরামিষ খান বা দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিন কম পাচ্ছেন, তাঁদের জন্য পেয়ারা হতে পারে একেবারে প্রাকৃতিক ও নিরাপদ সমাধান।
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক এই ফল
সকালের নাস্তায় কিংবা বিকেলের হালকা খাবার হিসেবে পেয়ারা খেলে পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে। এতে—
বারবার ক্ষুধা লাগা কমে
অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা হ্রাস পায়
ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে
ফাইবার বেশি থাকার কারণেই এই সুবিধা মেলে।
শীতে ঠান্ডা-কাশি কমাতে কতটা কার্যকর?
পেয়ারায় থাকা উচ্চমাত্রার ভিটামিন C ঠান্ডা, কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে লড়াই করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও পেয়ারা বিশেষভাবে উপকারী—যা শীতকালে অনেকেরই সাধারণ সমস্যা।
প্রোটিন মানেই ডাল, দুধ বা ডিম—এই ধারণা আজও অনেকের। কিন্তু জানেন কি, একটি সাধারণ ফলেই লুকিয়ে রয়েছে চমকপ্রদ পরিমাণ প্রোটিন? শীতকালে সহজলভ্য এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিরামিষাশীদের প্রোটিনের ঘাটতিও পূরণ করে।













