গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে হাঁসফাঁস অবস্থা, ঠিক তখনই জঙ্গলমহলের গ্রামাঞ্চলে প্রকৃতির উপহার হয়ে ধরা দেয় বেল। একসময় বাড়ির উঠোন বা জঙ্গলের গাছেই সীমাবদ্ধ থাকা এই ফল এখন বহু মানুষের আয়ের নতুন রাস্তা খুলে দিয়েছে। খোলা বাজার থেকে কলকাতার ভেষজ শিল্প— সর্বত্রই বাড়ছে বেলের কদর।
দাবদাহে স্বস্তির নাম বেল
খাতড়া, রানিবাঁধ, রাইপুর-সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রীষ্ম এলেই পেকে ওঠে বেল। স্থানীয়দের মতে, প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে বেলের শরবতের জুড়ি নেই। হিটস্ট্রোকের আশঙ্কা কমাতেও এই ফলকে উপকারী বলে মনে করেন অনেকে। তাই গরম বাড়তেই বাজারে বেড়ে যায় বেলের চাহিদা।
ফল থেকে জীবিকা, বদলাচ্ছে গ্রামের অর্থনীতি
একসময় শুধুই ঘরোয়া ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা বেল এখন বহু বননির্ভর পরিবারের রোজগারের অন্যতম উৎস। ভোর হতেই খাতড়া বাজারে দেখা যায় বেলের বিশাল সম্ভার। গ্রামের মানুষ জঙ্গল ও বাগান থেকে বেল সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করছেন। বর্তমানে খোলা বাজারে প্রতি বস্তা বেল বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১২০০ টাকায়, কেজি প্রতি দাম ২৫ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত উঠছে।
কলকাতায় যাচ্ছে বেলের শাঁস
শুধু স্থানীয় বাজারেই নয়, বেলের চাহিদা এখন শহরেও বাড়ছে। প্রতিদিন খাতড়া বাজারে কয়েকজন শ্রমিক বেল সেদ্ধ করে তার শাঁস আলাদা করছেন, যা কলকাতার বিভিন্ন সংস্থায় পাঠানো হচ্ছে। ওই শাঁস ব্যবহার হচ্ছে ভেষজ ওষুধ ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যপণ্যের কাজে। ফলে এই মৌসুমি ফলকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন ব্যবসার সম্ভাবনা।
বেলের খোলাও ফেলনা নয়
বেলের বিশেষত্ব হল, এর কোনও অংশই কার্যত নষ্ট হয় না। শক্ত খোলা শুকিয়ে তৈরি হচ্ছে বেলের মালা, যা ধর্মীয় কাজে ব্যবহার করা হয়। যদিও এই কাজ সময়সাপেক্ষ ও পরিশ্রমসাধ্য, তবুও বহু পরিবার এতে অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে বেলের প্রতিটি অংশই আলাদা ভাবে বাজারে মূল্য পাচ্ছে।
সরকারি সহায়তা মিললেই খুলতে পারে নতুন দরজা
স্থানীয়দের দাবি, সঠিক প্রশিক্ষণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সরকারি উদ্যোগ থাকলে বেলকে কেন্দ্র করে জঙ্গলমহলে ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে উঠতে পারে। তাতে শুধু মৌসুমি ব্যবসাই নয়, সারা বছরের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। অনেকের মতে, বেল এখন আর শুধুই একটি ফল নয়, জঙ্গলমহলের অর্থনীতির নীরব শক্তি হয়ে উঠছে।
তীব্র গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে জঙ্গলমহলের মানুষের প্রথম পছন্দ বেল। তবে শুধু পুষ্টিগুণ নয়, এই ফল এখন বাঁকুড়ার খাতড়া, রানিবাঁধ, রাইপুর-সহ বিস্তীর্ণ এলাকার বহু পরিবারের জীবিকার অন্যতম বড় ভরসা হয়ে উঠেছে। বাজারে বাড়ছে চাহিদা, কলকাতাতেও যাচ্ছে বেলের শাঁস ও খোলা। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি সহায়তা মিললে বেলকে ঘিরে গড়ে উঠতে পারে বড় শিল্প।













