বাঙালির ভোজনরসিক মনকে তৃপ্ত করতে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়ারও জুড়ি মেলা ভার। বিশেষ করে সুন্দরবন অঞ্চলের খাবারের তালিকায় কাঁকড়ার ঝোলের জনপ্রিয়তা বেশ পরিচিত। নদী-জঙ্গলঘেরা এই অঞ্চলের খাদ্যসংস্কৃতির স্বাদ এবার তুলে আনতে পারেন নিজের রান্নাঘরেও। পেঁয়াজ, আদা, রসুন, সরষে এবং বাছাই করা মশলা দিয়ে ধীরে ধীরে কষিয়ে নিলেই তৈরি হবে লালচে, ঝালঝাল কাঁকড়ার কষা। রইল সহজ ঘরোয়া রেসিপি।
![]()
সুন্দরবনের কাঁকড়ার কষা কেন এত জনপ্রিয়?
সুন্দরবন মানেই নদী, ম্যানগ্রোভ অরণ্য আর প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য। তবে এই অঞ্চলের পরিচিতি শুধু পর্যটন বা প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে সীমাবদ্ধ নয়, এখানকার নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতিও ভোজনরসিকদের আকর্ষণ করে। মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া স্থানীয় রান্নার একটি পরিচিত উপাদান।সরষের ঝাঁঝ, পেঁয়াজের মিষ্টত্ব, আদা-রসুনের গন্ধ এবং বিভিন্ন মশলার মেলবন্ধনে কাঁকড়ার কষা পায় স্বতন্ত্র স্বাদ। গরম ভাতের সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করলে জমে যায় বাঙালির দুপুরের খাওয়াদাওয়া।
কাঁকড়ার কষা বানাতে কী কী উপকরণ লাগবে?
বাড়িতে সহজেই এই পদ তৈরি করতে হাতের কাছে রাখুন কয়েকটি সাধারণ উপকরণ।
উপকরণ:
পরিষ্কার করা কাঁকড়া – ৫০০ গ্রাম
পেঁয়াজ কুচি – ২টি মাঝারি
আদাবাটা – ১ চা চামচ
রসুনবাটা – ১ চা চামচ
সরষেবাটা – ১ টেবিল চামচ
টম্যাটো – ১টি মাঝারি
হলুদ গুঁড়ো – আধা চা চামচ
লঙ্কাগুঁড়ো – স্বাদমতো
জিরেগুঁড়ো – ১ চা চামচ
ধনেগুঁড়ো – ১ চা চামচ
গোটা জিরে – আধা চা চামচ
কাঁচালঙ্কা – ২-৩টি
সরষের তেল – প্রয়োজনমতো
নুন – স্বাদমতো
চিনি – সামান্য, ইচ্ছেমতো
গরম মশলা – সামান্য
জল – প্রয়োজনমতো
ধাপে ধাপে বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু কাঁকড়ার কষা
![]()
প্রথম ধাপ: কাঁকড়া পরিষ্কার করে মাখিয়ে নিন
প্রথমে কাঁকড়া ভালোভাবে পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন। এরপর নুন ও হলুদ মাখিয়ে কয়েক মিনিট রেখে দিন। রান্নার আগে কাঁকড়া ভালোভাবে পরিষ্কার হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
দ্বিতীয় ধাপ: কাঁকড়া হালকা ভেজে নিন
কড়াইয়ে সরষের তেল গরম করে কাঁকড়াগুলি হালকা ভেজে তুলে রাখুন। বেশি সময় ধরে ভাজবেন না, কারণ পরে মশলার সঙ্গে কষানোর সময়ও কাঁকড়া রান্না হবে।
তৃতীয় ধাপ: পেঁয়াজ, আদা ও রসুন কষান
একই কড়াইয়ে প্রয়োজনে আরও কিছু তেল দিয়ে গোটা জিরে ফোড়ন দিন। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন। আদাবাটা ও রসুনবাটা দিয়ে কষিয়ে নিন। এবার টম্যাটো, হলুদ, লঙ্কাগুঁড়ো, জিরেগুঁড়ো ও ধনেগুঁড়ো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
চতুর্থ ধাপ: সরষেবাটার মিশেলে তৈরি করুন মশলা
এবার সরষেবাটা ও কাঁচালঙ্কা দিয়ে মশলা ভালোভাবে কষান। প্রয়োজনে অল্প জল দিন, যাতে মশলা কড়াইয়ে লেগে না যায়। তেল আলাদা হয়ে মশলা থেকে সুন্দর গন্ধ বেরোতে শুরু করলে বুঝবেন কষানো প্রায় তৈরি।
পঞ্চম ধাপ: কাঁকড়া দিয়ে ধীরে ধীরে কষিয়ে নিন
এবার ভেজে রাখা কাঁকড়া কড়াইয়ে দিয়ে মশলার সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। নুন পরীক্ষা করে প্রয়োজনমতো দিন। কাঁকড়া থেকে স্বাদ বেরোনোর জন্য ঢেকে অল্প আঁচে রান্না করুন। প্রয়োজনে সামান্য গরম জল দিয়ে ঝোলের ঘনত্ব ঠিক করে নিন।
ষষ্ঠ ধাপ: শেষ মুহূর্তে গরম মশলা
কাঁকড়া সম্পূর্ণ সেদ্ধ হয়ে গেলে সামান্য গরম মশলা ছড়িয়ে দিন। ঝোল ঘন ও মশলাদার রাখতে চাইলে কিছুক্ষণ ঢাকনা খুলে কষিয়ে নিতে পারেন। তবে কাঁকড়া যেন অতিরিক্ত সেদ্ধ হয়ে শক্ত না হয়ে যায়, সেদিকে নজর রাখুন।
কাঁকড়ার কষা আরও সুস্বাদু করার সহজ কৌশল
কাঁকড়ার স্বাদ বাড়াতে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন।
সরষেবাটা বেশি দিলে ঝাঁঝ বেড়ে যেতে পারে, তাই পরিমাণ বুঝে ব্যবহার করুন।
পেঁয়াজ ভালোভাবে কষালে ঝোলের রং ও স্বাদ দুটোই উন্নত হয়।
মশলা কষানোর সময় অল্প অল্প জল দিন, যাতে মশলা পুড়ে না যায়।
কাঁকড়া সম্পূর্ণ সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করলে কাঁকড়ার কষার স্বাদ আরও উপভোগ্য হয়।
কোন খাবারের সঙ্গে পরিবেশন করবেন?
গরম সাদা ভাতের সঙ্গে কাঁকড়ার কষার জুটি একেবারে আদর্শ। চাইলে দুপুরের বিশেষ খাবারে ডাল ও ভাজাভুজির সঙ্গে এই পদ পরিবেশন করতে পারেন। সরষে ও মশলার ঝাঁঝালো স্বাদ ভাতের সঙ্গে দারুণ মানিয়ে যায়।
![]()
সুন্দরবনের নিজস্ব খাদ্যসংস্কৃতির অন্যতম আকর্ষণ কাঁকড়ার ঝোল। সরষের ঝাঁঝ, পেঁয়াজের মিষ্টি স্বাদ, আদা-রসুনের সুগন্ধ আর নানা মশলার মিশেলে বাড়িতেই তৈরি করা যায় সুস্বাদু কাঁকড়ার কষা। গরম ভাতের সঙ্গে এই মশলাদার পদ দুপুর কিংবা রাতের খাবারে এনে দিতে পারে অন্যরকম স্বাদ। জেনে নিন সহজ উপকরণে কাঁকড়ার কষা তৈরির পদ্ধতি।








