ভাগীরথীর ঘাটে পুণ্যস্নান হোক কিংবা শেষকৃত্যের নিয়ম পালন— প্রতিদিনই কাটোয়ার মরাঘাট এলাকায় মানুষের ভিড় লেগে থাকে। কিন্তু সেই ঘাটই ধীরে ধীরে পরিণত হচ্ছিল বিপদের কেন্দ্রে। একের পর এক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনার পর অবশেষে কড়া পদক্ষেপ নিল কাটোয়া পুলিশ প্রশাসন। বিপজ্জনক ঘাটগুলিকে ঘিরে ফেলা হয়েছে বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে, লাগানো হয়েছে বড় সতর্কীকরণ বোর্ডও।
ভাগীরথীর ঘাটে প্রতিদিন ভিড়, বাড়ছিল উদ্বেগ
পূর্ব বর্ধমানের Katwa শহরের পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ভাগীরথী নদী। প্রতিদিন স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বহু দূরদূরান্তের মানুষ এই ঘাটে স্নান করতে আসেন। বিশেষ করে Katwa Mahashmashan-এ শেষকৃত্য সম্পন্ন করার পর বহু মানুষ নিয়ম মেনে নদীতে স্নান সারেন কিংবা অস্থি বিসর্জন দেন। ফলে দিনভর মরাঘাট এলাকায় মানুষের আনাগোনা লেগেই থাকে।
নদীর ভিতরে গভীর খাদ, অজান্তেই ঘটছে বিপদ
বাইরে থেকে সাধারণ ঘাটের মতো দেখালেও নদীর ভিতরে রয়েছে গভীর খাদ। আর সেই গভীরতার আন্দাজ করতে না পেরে বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ। কাটোয়া থানার পক্ষ থেকে আগে থেকেই সতর্কীকরণ বোর্ড লাগানো হয়েছিল। সেখানে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল— ‘সামনে গভীর খাদ, সাবধানতা অবলম্বন করুন’। কিন্তু বাস্তবে বহু মানুষ সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেই জলে নামছিলেন।
পরপর দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠেছিল এলাকা
গত কয়েক মাসে এই এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। নদীতে তলিয়ে মৃত্যু হয়েছে এক পড়ুয়া ও এক যুবকের। কয়েকদিন আগেই অস্থি বিসর্জন করতে এসে নদীতে ডুবে যান তিনজন। যদিও স্থানীয় এক চা বিক্রেতা এবং আশেপাশের মানুষের তৎপরতায় তাঁদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়। কিন্তু পরপর এই ঘটনা ঘিরে আতঙ্ক ছড়ায় গোটা এলাকায়।
বাঁশের ব্যারিকেড ও বড় সতর্কবার্তায় নতুন ব্যবস্থা
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝেই এবার কড়া পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। মরাঘাট ও শ্মশান সংলগ্ন বিপজ্জনক অংশগুলি বাঁশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে। পাশাপাশি আরও বড় আকারে সতর্কীকরণ বোর্ড টাঙানো হয়েছে। কাটোয়ার এসডিপিও Kashinath Mistry জানিয়েছেন, অনেকেই বুঝতে পারেন না কোথায় গভীর জল রয়েছে। বিশেষ করে বাইরের লোকজন বেশি সমস্যায় পড়েন। তাই দুর্ঘটনা এড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব স্থানীয়রা
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শুধু ব্যারিকেড বা সতর্কবার্তা দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত ঘাটগুলির দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। নিরাপদ স্নানের ব্যবস্থা, বিপজ্জনক অংশ চিহ্নিতকরণ এবং ঘাট মেরামতের দাবিও তুলেছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনও প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে কাটোয়ার মানুষ।
পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়ার মরাঘাট ও শ্মশান সংলগ্ন এলাকায় একের পর এক দুর্ঘটনার পর নড়েচড়ে বসল পুলিশ প্রশাসন। বিপজ্জনক ঘাটে বাঁশের ব্যারিকেড, বড় সতর্কীকরণ বোর্ড-সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যদিও স্থায়ী সমাধানের দাবিতে সরব স্থানীয় বাসিন্দারাও।











