কিয়ার স্টার্মারের পদত্যাগের পর জুলাইয়ে নতুন নেতা বেছে নেবে লেবার পার্টি

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টার্মার পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। লেবার পার্টি জুলাইয়ে নতুন নেতা নির্বাচন করবে, আর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে নির্বাচিত নেতাই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন।

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতা Keir Starmer সোমবার পদত্যাগ করেছেন। ১০ ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে জাতির উদ্দেশে ভাষণে তিনি বলেন, তাঁর মনে হচ্ছে দল এখন পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনের আগে নতুন নেতৃত্বের দিকে এগোতে চায়। তিনি বলেন, দেশ ও দলের স্বার্থে নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের এটাই উপযুক্ত সময়। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

স্টার্মার ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে জয় এনে দিয়েছিলেন। তবে ক্ষমতায় আসার পর তাঁর জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে। স্থানীয় নির্বাচনে দুর্বল ফলাফল, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন সংক্রান্ত অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি এবং বিভিন্ন নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন নিয়ে তিনি সমালোচনার মুখে পড়েন। গত কয়েক মাসে দলের একাধিক সংসদ সদস্য ও জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, যার ফলে তাঁর ওপর পদত্যাগের চাপ বাড়তে থাকে।

স্টার্মার জানান, তিনি তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে King Charles III-কে অবহিত করেছেন। এখন লেবার পার্টির জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি (এনইসি) নতুন নেতা নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করবে। দল জুলাইয়ের শুরুতে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে এবং পার্লামেন্টের গ্রীষ্মকালীন অবকাশের আগে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার চেষ্টা করবে। যেহেতু লেবার পার্টির পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলের নতুন নেতাই দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হবেন। এর জন্য নতুন সাধারণ নির্বাচনের প্রয়োজন হবে না।

কিয়ার স্টার্মারের পদত্যাগের পর জুলাইয়ে নতুন নেতা বেছে নেবে লেবার পার্টি

স্টার্মারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে Andy Burnham-এর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। সম্প্রতি উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে ফিরে আসা বার্নহ্যাম লেবার পার্টির বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমর্থন পাচ্ছেন বলে মনে করা হচ্ছে। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী বার্নহ্যাম কোভিড-১৯ মহামারির সময় ম্যানচেস্টার অঞ্চলের স্বার্থে অবস্থান নেওয়ার কারণে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি লাভ করেন। সাধারণ মানুষের বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর সক্রিয় অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত।

তবে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অন্য নামও আলোচনায় রয়েছে। লেবার পার্টির উপনেতা Angela Rayner, জ্যেষ্ঠ নেতা Yvette Cooper এবং তরুণ নেতা Wes Streeting-কেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামলে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হতে পারে।

ব্রিটেনের সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি জনগণ নির্বাচন করে না। পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকা দলের নেতাই প্রধানমন্ত্রী হন। যদি সংসদ সদস্যরা মনে করেন বর্তমান নেতা দলকে নির্বাচনী ক্ষতির মুখে ফেলতে পারেন, তাহলে নেতৃত্ব পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে। এ কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রিটেনে একাধিক প্রধানমন্ত্রী পূর্ণ মেয়াদ শেষ করার আগে পদত্যাগ করেছেন।

স্টার্মারের পদত্যাগের ফলে ব্রিটেনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হলো। তাঁর আগে David Cameron, Theresa May, Boris Johnson, Liz Truss এবং Rishi Sunak-ও পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে পদ ছেড়েছিলেন। স্টার্মারের বিদায়ের পর ব্রিটেন সাত বছরের মধ্যে ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

লেবার পার্টির জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। নতুন নেতা সরকার পরিচালনার পাশাপাশি দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ভোটারদের আস্থা পুনরুদ্ধারের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবেন। বর্তমানে অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে এগিয়ে রাখা হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর।

 

Leave a comment