ফার্স্ট স্টেজেই কিডনির সতর্কবার্তা! শরীরের এই ৪ সিগন্যাল দেখলেই সতর্ক হন, নইলে বাড়বে ঝুঁকি

ফার্স্ট স্টেজেই কিডনির সতর্কবার্তা! শরীরের এই ৪ সিগন্যাল দেখলেই সতর্ক হন, নইলে বাড়বে ঝুঁকি

শরীরের ‘ফিল্টার মেশিন’ বলা হয় কিডনিকে। রক্ত থেকে দূষিত পদার্থ বের করে দেওয়া থেকে শুরু করে সোডিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্য বজায় রাখা—সবই কিডনির কাজ। কিন্তু এই অঙ্গটি যখন নীরবে অসুস্থ হয়ে পড়ে, তখন বেশিরভাগ মানুষ তা টেরই পান না। বিশেষজ্ঞদের মতে, একেবারে প্রথম পর্যায়ে কিছু সূক্ষ্ম লক্ষণ দেখা দেয়, যেগুলি চিনে নেওয়াই সুস্থ থাকার চাবিকাঠি।

কেন কিডনির অসুখ দেরিতে ধরা পড়ে?

National Kidney Foundation-এর চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অধিকাংশ রোগী তখনই চিকিৎসকের কাছে যান, যখন কিডনির ক্ষতি অনেকটাই হয়ে গিয়েছে। চিফ মেডিক্যাল অফিসার Joseph Vassalotti-র কথায়, খুব কম সংখ্যক মানুষ প্রাথমিক উপসর্গ চিনতে পারেন। তাই শুরুতেই সতর্ক হওয়া জরুরি।

সবসময় ক্লান্ত লাগা—লাল রক্তকণিকার ঘাটতির ইঙ্গিত

কিডনি erythropoietin নামের একটি হরমোন তৈরি করে, যা লাল রক্তকণিকা (RBC) উৎপাদনে সাহায্য করে। কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই হরমোনের মাত্রা কমে যায়। ফলে শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয় এবং অকারণে ক্লান্তি, দুর্বলতা, মনোসংযোগের অভাব দেখা দিতে পারে।

অনিদ্রা—বর্জ্য জমে থাকার প্রভাব

কিডনি ঠিকমতো কাজ না করলে শরীর থেকে টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ বেরোতে পারে না। এই জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ ঘুমের সমস্যা তৈরি করতে পারে। রাতে ঘন ঘন ঘুম ভাঙা বা গভীর ঘুম না হওয়া—এগুলিও প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে।

ত্বক শুষ্ক ও চুলকানি—খনিজের ভারসাম্য নষ্টের ফল

কিডনি শরীরের খনিজ ও নুনের ভারসাম্য রক্ষা করে। এই প্রক্রিয়ায় গন্ডগোল হলে ত্বক শুষ্ক, খসখসে হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় চুলকানি বা ছোট ঘা-ও দেখা দেয়। দীর্ঘদিন অবহেলা করলে হাড়ের সমস্যাও বাড়তে পারে।

পা বা গোঁড়ালি ফুলে যাওয়া—ফ্লুইড জমার লক্ষণ

কিডনি সঠিকভাবে তরল পদার্থ বের করতে না পারলে শরীরে জল জমে যায়। ফলে পা, গোঁড়ালি বা পায়ের পাতায় ফোলা দেখা দেয়। সঙ্গে ক্ষিদে কমে যাওয়া ও পেশিতে টান ধরা—এগুলিও গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

ঝুঁকিতে কারা বেশি?

গবেষণা বলছে, পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে কিডনি রোগের ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে ৩০ বছরের বেশি বয়সি, ডায়াবিটিস বা উচ্চ রক্তচাপে ভোগা মহিলাদের ক্ষেত্রে ক্রনিক কিডনি ডিজিজের সম্ভাবনা বাড়ে। পলিসিস্টিক কিডনি ডিজিজের ঝুঁকিও তাঁদের বেশি।

কিডনির অসুখ সাধারণত দেরিতে ধরা পড়ে বলেই তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। অথচ একেবারে প্রথম পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনি বিকলের প্রথম ধাপে শরীর ৪টি গুরুত্বপূর্ণ সিগন্যাল দেয়—যেগুলি উপেক্ষা করলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। ক্লান্তি, অনিদ্রা, ত্বকের সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়া—এই লক্ষণগুলি দেখলেই সতর্ক হওয়া জরুরি।

Leave a comment