পায়ে ফুটে উঠতে পারে কিডনির অসুখ! এই ৫ লক্ষণ দেখলেই সতর্ক হন, দেরি করলে বাড়তে পারে ঝুঁকি

কিডনির সমস্যা অনেক সময় পায়ের ফোলাভাব, ঝিনঝিন ভাব বা দুর্বলতার মাধ্যমে বোঝা যায়। জেনে নিন কিডনি রোগের ৫টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত।

কিডনির রোগ এখন বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়তে থাকা একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। কিন্তু সমস্যাটি গুরুতর হয়ে ওঠার আগে অনেকেই শরীরের সূক্ষ্ম সংকেতগুলো বুঝতে পারেন না। বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের নীচের অংশ—বিশেষ করে পায়ে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে তা কিডনির সমস্যার পূর্বাভাস হতে পারে। তাই পায়ের এই পরিবর্তনগুলো অবহেলা না করে দ্রুত সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

পা বা গোড়ালিতে হঠাৎ ফোলাভাব

কিডনির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল শরীর থেকে অতিরিক্ত জল ও লবণ বের করে দেওয়া। কিন্তু কিডনি ঠিকভাবে কাজ না করলে শরীরে তরল জমতে শুরু করে। ফলে সন্ধ্যার দিকে পায়ের গোড়ালি বা পা ফুলে যেতে পারে। অনেক সময় মোজা খুললে তার দাগও স্পষ্ট হয়ে থাকে।

চাপ দিলে গর্তের মতো দাগ পড়ে থাকা

পায়ের ফোলা জায়গায় চাপ দিলে যদি কিছুক্ষণ গর্তের মতো দাগ থেকে যায়, তাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘পিটিং ইডিমা’ বলা হয়। এটি কিডনির সমস্যা, হৃদরোগ বা লিভারের সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।

পা ভারী বা টানটান লাগা

শরীরে অতিরিক্ত তরল জমলে অনেকের পা ভারী বা টানটান মনে হয়। দিনের শেষে পায়ে ব্যথা বা অস্বস্তি বাড়তে পারে। এটি কিডনির দুর্বল পরিস্রাবণ ক্ষমতার প্রাথমিক লক্ষণও হতে পারে।

পেশির দুর্বলতা ও শক্তি কমে যাওয়া

দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ শরীরের পেশিতেও প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে পায়ের পেশির শক্তি কমে যায়, হাঁটার সময় ভারসাম্য বজায় রাখতে সমস্যা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কিডনি রোগে আক্রান্তদের মধ্যে এই সমস্যা বেশ সাধারণ।

পায়ে ঝিনঝিন ভাব বা অসাড়তা

কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করতে না পারলে সেগুলো রক্তে জমতে থাকে। এর ফলে স্নায়ুর উপর প্রভাব পড়ে এবং পায়ে ঝিনঝিন ভাব, অসাড়তা বা জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। অনেক সময় এটি ‘রেস্টলেস লেগস সিনড্রোম’-এর লক্ষণ হিসেবেও দেখা যায়।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি

পায়ের এই লক্ষণগুলোর পাশাপাশি যদি নিচের সমস্যাগুলো দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—

পা বা গোড়ালিতে দীর্ঘদিন ফোলাভাব

প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া

অতিরিক্ত ক্লান্তি

শ্বাসকষ্ট

প্রস্রাবের অভ্যাসে পরিবর্তন

সিরাম ক্রিয়েটিনিন, eGFR বা ইউরিন অ্যালবুমিন পরীক্ষার মাধ্যমে কিডনির সমস্যাকে প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করা সম্ভব।

কিডনির রোগ অনেক সময় প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট লক্ষণ দেখায় না। তবে শরীরের নীচের অংশ, বিশেষ করে পায়ে কিছু পরিবর্তন দেখা গেলে তা কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। তাই এই ৫টি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

Leave a comment