সকালের তাড়াহুড়োয় বাচ্চার স্কুলের টিফিন গুছিয়ে দিতে গিয়ে আমরা অনেক সময়ই নজর দিই না খাবার রাখার পাত্রটির দিকে। বাহারি রঙের সস্তা প্লাস্টিক টিফিন বক্স দেখতে আকর্ষণীয় হলেও তা আদৌ নিরাপদ কি না, সেই প্রশ্নই এখন তুলছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা। তাঁদের মতে, ভুল টিফিন বক্স শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য নীরব বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
প্লাস্টিক টিফিন বক্সে কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
বাজারে সহজলভ্য অনেক প্লাস্টিক টিফিন বক্স গরম খাবার রাখার জন্য উপযুক্ত নয়। গরম খাবার রাখলে প্লাস্টিকের মধ্যে থাকা BPA (Bisphenol-A) ও থ্যালেটস নামক ক্ষতিকর রাসায়নিক ‘লিচিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। নিয়মিত এই খাবার গ্রহণ করলে শিশুদের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে।
শিশুদের শরীরে কী কী সমস্যা হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন এই ধরনের প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে শিশুদের ওজন বেড়ে যাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা, হরমোনাল ডিসঅর্ডার এমনকি ভবিষ্যতে ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। আশঙ্কার বিষয়, অনেক ক্ষেত্রে ‘BPA Free’ লেখা থাকলেও সেই প্লাস্টিক পুরোপুরি নিরাপদ নাও হতে পারে।
টিফিন বক্সের নিরাপদ বিকল্প কী?
স্টেইনলেস স্টিল: সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প। রাসায়নিক বিক্রিয়া হয় না, টেকসই ও সহজে পরিষ্কার করা যায়।
কাচ: সম্পূর্ণ রাসায়নিকমুক্ত এবং খাবারের স্বাদ অটুট রাখে। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তামা বা পিতল: জীবাণুনাশক গুণ থাকলেও এতে টক বা অ্যাসিডিক খাবার রাখা বিপজ্জনক হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
পুষ্টিবিদদের মতে, টিফিন বক্স কেনার সময় অবশ্যই ফুড-গ্রেড মান, এয়ার-টাইট ও লিক-প্রুফ সুবিধা আছে কি না তা যাচাই করা জরুরি। প্লাস্টিকের বদলে স্টিল বা নিরাপদ সিলিকন কন্টেইনার ব্যবহার করাই শ্রেয়।
স্কুলের টিফিনে খাবার দেওয়ার সময় অনেক অভিভাবকই পাত্রের গুণমান নিয়ে ভাবেন না। অথচ সস্তা প্লাস্টিক টিফিন বক্স থেকেই শিশুর শরীরে ঢুকতে পারে ক্ষতিকর রাসায়নিক। চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা— ভুল টিফিন বক্স ভবিষ্যতে বড় রোগের কারণ হতে পারে।













