খাবারের দোকানে পানীয় জলে গরমিল, ১৪ লক্ষ টাকার বেশি জরিমানা করল কলকাতা পুরসভা

খাবারের দোকানে পানীয় জলে গরমিল, ১৪ লক্ষ টাকার বেশি জরিমানা করল কলকাতা পুরসভা

শহরের রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে পরিবেশিত পানীয় জল কতটা নিরাপদ? সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে নেমে বড়সড় গরমিলের হদিশ পেল কলকাতা পুরসভা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে হাজার হাজার জলের নমুনা পরীক্ষার পর একাধিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

২,৬১৯টি নমুনা পরীক্ষা, একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত

পুরসভার জল পরীক্ষার সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরিতে ২০২৫–২৬ আর্থিক বছরে মোট ২,৬১৯টি পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এই পরীক্ষায় দেখা যায়, বেশ কিছু ক্ষেত্রে নির্ধারিত স্বাস্থ্যবিধি মানা হয়নি। কোথাও জীবাণুর উপস্থিতি, কোথাও আবার পরিশোধন প্রক্রিয়ায় গাফিলতির প্রমাণ মেলে বলে সূত্রের খবর।

খাবারের দোকানগুলিতে নজরদারি জোরদার

শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে খাবারের দোকান, হোটেল ও রেস্তোরাঁ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষায় গরমিল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট মালিকদের নোটিস পাঠানো হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী জরিমানা ধার্য করা হয়।

১৪ লক্ষ টাকার বেশি জরিমানা আদায়

অনিয়মের জেরে জরিমানা বাবদ ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি অর্থ পুরসভার কোষাগারে জমা পড়েছে। স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা জানিয়েছেন, জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনও রকম আপস করা হবে না। ভবিষ্যতেও নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা ও নজরদারি চলবে।

জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপ

বিশেষজ্ঞদের মতে, দূষিত পানীয় জল থেকে ডায়রিয়া, টাইফয়েড, হেপাটাইটিসের মতো একাধিক রোগ ছড়াতে পারে। তাই খাবারের দোকানগুলিকে বিশুদ্ধ জল সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়াও পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

কলকাতার বিভিন্ন খাবারের দোকানে সরবরাহ করা পানীয় জলের মান পরীক্ষায় একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ২,৬১৯টি নমুনা পরীক্ষার পর নিয়মভঙ্গের দায়ে ১৪ লক্ষ টাকারও বেশি জরিমানা আদায় করেছে কলকাতা পুরসভা।

Leave a comment