বাংলার প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই রাতের কয়েকটি রুটি থেকে যায়। পরদিন সেই রুটির জায়গা হয় ডাস্টবিনে। কিন্তু জানেন কি, এই ‘বাসি’ রুটিই শরীরের জন্য হতে পারে দারুণ উপকারী? বিশেষজ্ঞদের দাবি, তাজা রুটির তুলনায় বাসি রুটির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় এটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি এতে থাকা ফাইবার ও প্রিবায়োটিক উপাদান হজমশক্তি উন্নত করতেও সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে বাসি রুটি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাসি রুটিতে থাকা জটিল কার্বোহাইড্রেট ধীরে ধীরে ভাঙে। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা আচমকা বাড়ে না। তাই যাঁরা ব্লাড সুগার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য সকালের জলখাবারে এক-দুটি বাসি রুটি উপকারী হতে পারে।
পেটের সমস্যার সহজ সমাধান?
অ্যাসিডিটি, বুকজ্বালা, টক ঢেকুর বা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। বাসি রুটিতে থাকা ফাইবার ও প্রিবায়োটিক অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখতে সাহায্য করে। ফলে হজম প্রক্রিয়া সহজ হয় এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা থাকে।
ওজন কমাতেও কার্যকর
যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাঁদের জন্যও বাসি রুটি হতে পারে ভালো বিকল্প। এতে থাকা ফাইবার দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে বারবার খিদে পায় না এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাও কমে।
শরীরে জোগায় এনার্জি
বাসি রুটিতে রয়েছে ভিটামিন বি, আয়রন ও প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট। তাই ক্লান্তি বা দুর্বলতা কাটিয়ে শরীরে শক্তি জোগাতেও এটি সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে সকালের নাস্তায় এটি খেলে সারাদিন সতেজ থাকা সম্ভব বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
কীভাবে খাবেন বাসি রুটি?
রাতের রুটি অবশ্যই পরিষ্কার পাত্রে ঢেকে ফ্রিজে রাখতে হবে। সকালে সেই রুটি ঠান্ডা দুধ বা টাটকা দইয়ের সঙ্গে খাওয়া যেতে পারে। কেউ চাইলে সামান্য গুড় বা কালো লবণও মিশিয়ে নিতে পারেন। তবে রুটিতে যদি ছত্রাক বা দুর্গন্ধ দেখা যায়, তা একেবারেই খাওয়া উচিত নয়।
অপচয় কমানোরও সহজ উপায়
বাসি রুটি খাওয়ার অভ্যাস শুধু শরীরের জন্যই নয়, পরিবেশ ও সংসারের পক্ষেও লাভজনক। এতে খাবারের অপচয় কমে, পাশাপাশি সময় ও জ্বালানিও বাঁচে।
রাতের বাসি রুটি অনেকেই অবহেলায় ফেলে দেন। অথচ পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও খেলে এই বাসি রুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যরক্ষার সহজ উপায়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, ওজন কমানো, হজমশক্তি বাড়ানো থেকে শুরু করে অ্যাসিডিটি কমানো— একাধিক উপকার মিলতে পারে এই সাধারণ খাবারেই।













