বলিউডে ছবি হিট করার অঙ্ক কষতে নির্মাতারা কখনও ভরসা রাখেন গল্পে, কখনও তারকাখ্যাতিতে, আবার কখনও ‘লাকি চার্ম’-এ। কিন্তু ৯০-এর দশকে এমন এক অভিনেত্রীর নাম উঠে আসে, যাঁর উপস্থিতিতেই শেষ মুহূর্তে যোগ হওয়া গান বা দৃশ্য বদলে দিয়েছে বক্স অফিসের ইতিহাস। তিনি আর কেউ নন—মাধুরী দীক্ষিত।
৯০-এর দশক ও মাধুরীর জাদু
নব্বইয়ের দশক মানেই রোমান্টিক গল্প, হৃদয়ছোঁয়া গান আর সঙ্গীতনির্ভর সিনেমার স্বর্ণযুগ। সেই সময়ে মাধুরী দীক্ষিত ছিলেন এমন এক নাম, যাঁর উপস্থিতি মানেই প্রেক্ষাগৃহে উপচে পড়া ভিড়। শুধু অভিনয় নয়, তাঁর নাচ ও এক্সপ্রেশন ছবিকে এনে দিত আলাদা মাত্রা।
‘দিল’ ও শেষ মুহূর্তের চমক
১৯৯০ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত দিল ছবির শুটিং শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও পরিচালক ইন্দর কুমার হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেন একটি নতুন গান যোগ করার। সেই গান—‘দম দমা দম’। মুক্তির আগে যুক্ত হওয়া এই গানই হয়ে ওঠে ছবির ইউএসপি। ফলাফল, বক্স অফিসে প্রায় ১৭ কোটি টাকার ব্যবসা।
‘বেটা’ ও ‘ধক-ধক’ ঝড়
বেটা ছবিও প্রায় সম্পূর্ণ হওয়ার পর যুক্ত হয় আইকনিক গান ‘ধক-ধক করনে লাগা’। মাধুরীর নাচ ও অভিব্যক্তি তাঁকে রাতারাতি বানিয়ে দেয় ‘ধক-ধক গার্ল’। ৪.৫ কোটি টাকার বাজেটে তৈরি ছবি আয় করে ২৩ কোটির বেশি—সুপার-ডুপার হিট।
‘সাজন’ ও ইতিহাস গড়া টাইটেল ট্র্যাক
১৯৯১ সালের সাজন ছবির টাইটেল গান ‘দেখা হ্যায় পেহলি বার’ যোগ হয়েছিল মুক্তির ঠিক আগেই। একদিনে শুট হওয়া এই গান আজও রোমান্টিক বলিউড গানের তালিকায় অমর। সালমান খান, সঞ্জয় দত্তের সঙ্গে মাধুরীর উপস্থিতি ছবিটিকে করে তোলে কালজয়ী।
কাকতালীয় না কি ‘লাকি চার্ম’?
দিল, সাজন ও বেটা—তিনটি ছবিই মুক্তির আগে শেষ মুহূর্তের সংযোজনে বদলে যায় ভাগ্য। মাত্র দুই বছরের মধ্যে তিনটি ব্লকবাস্টার। বলিউডে তাই আজও প্রশ্ন ওঠে—মাধুরী দীক্ষিত কি শুধুই অভিনেত্রী, নাকি সত্যিই এক ‘লাকি চার্ম’?
বলিউডে ভাগ্য আর পরিকল্পনার মেলবন্ধন নতুন নয়। তবে ৯০-এর দশকে এমন এক নায়িকা ছিলেন, যাঁর ছবিতে মুক্তির ঠিক আগে যুক্ত হওয়া গান বা দৃশ্যই বদলে দিয়েছে ভাগ্যচক্র। দিল, সাজন ও বেটা—এই তিন সুপারহিট ছবির নেপথ্যে কি তিনিই ‘লাকি চার্ম’?













