মহাশিবরাত্রি মানেই ভক্তি, উপোস আর রাত্রিজাগরণ। কিন্তু যাঁদের রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি, তাঁদের জন্য এই ব্রত হতে পারে বড়সড় শারীরিক চ্যালেঞ্জ। বিশেষজ্ঞদের মতে, না বুঝে উপোস করলে সুগার ‘ফল’ করে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আগে স্বাস্থ্য, তারপর ব্রত—এই মন্ত্রেই জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

ডিহাইড্রেশন এড়াতে বারবার জল
ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকলে শরীরে জলের ঘাটতি দ্রুত দেখা দেয়। এতে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঘাম ও সুগার লেভেলের অস্বাভাবিক পরিবর্তন হতে পারে। চিকিৎসকদের পরামর্শ, উপোস করলেও নির্দিষ্ট বিরতিতে জল পান করা জরুরি। প্রয়োজনে ডাবের জল, ঘোল বা অল্প দুধ খাওয়া যেতে পারে। তবে অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলাই ভাল।
উপোস ভাঙার সময় সতর্কতা
সারাদিন উপোসের পর হঠাৎ ভাজাভুজি বা তেল-মশলাদার খাবার খেলে শরীরের উপর চাপ পড়ে। এতে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়তে বা কমতে পারে। তাই ব্রত ভাঙার সময় সাবুদানার খিচুড়ি, সেদ্ধ সবজি, দই, ফল বা হালকা স্যুপ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অল্প অল্প করে জল পান করলে শরীর দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারে।

ওষুধের ডোজ বদল জরুরি হতে পারে
ডায়াবেটিসের কিছু ওষুধ প্যানক্রিয়াসকে বেশি ইনসুলিন নিঃসরণে উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু পেটে খাবার না থাকলে এই অতিরিক্ত ইনসুলিন রক্তে শর্করার মাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমিয়ে দিতে পারে। তাই উপোসের আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে ওষুধের ডোজ সাময়িক পরিবর্তন করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
ঘুম ও বিশ্রামের গুরুত্ব
উপোসের আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয়। এর প্রভাব পড়ে রক্তে শর্করার মাত্রায়। অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

কারা উপোস এড়িয়ে চলবেন?
যাঁদের সুগার নিয়ন্ত্রণে নেই, ইনসুলিন নির্ভর ডায়াবেটিস রয়েছে বা কিডনি-হার্টের সমস্যা আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে উপোস না করাই শ্রেয়। প্রয়োজনে ফলাহার বা হালকা খাদ্য গ্রহণ করেও আধ্যাত্মিক সাধনা করা যেতে পারে।

পবিত্র Maha Shivratri উপলক্ষে বহু ভক্ত উপোস পালন করেন। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সারাদিন না খেয়ে থাকা বিপজ্জনক হতে পারে। রক্তে শর্করার হঠাৎ ওঠানামা, ডিহাইড্রেশন ও হাইপোগ্লাইসেমিয়ার ঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ মানা জরুরি।













