'আমের জেলা' হিসেবে বহুদিন ধরেই পরিচিত মালদহ। এবার সেই পরিচিতি আরও এক ধাপ এগিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজের জায়গা শক্ত করল জেলার আম। আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক চাষপদ্ধতি এবং প্রশাসনিক উদ্যোগের ফলে মালদহের উৎকৃষ্ট মানের আম বিদেশের বাজারে রফতানি হয়েছে। এর ফলে জেলার কৃষক, ব্যবসায়ী এবং আম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত লক্ষাধিক মানুষের কাছে খুলে গেল নতুন সম্ভাবনার দরজা।
![]()
'আমার মালদা' প্রকল্পে মিলল আন্তর্জাতিক সাফল্য
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে চালু হওয়া 'আমার মালদা' প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল জেলার আম উৎপাদন, সংরক্ষণ, বিপণন এবং রফতানিকে একত্রিত করা। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রথম বড় সাফল্য হিসেবে এবার প্রায় ৬ মেট্রিক টন এক্সপোর্ট কোয়ালিটির আম আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়েছে। ইংরেজবাজারের অমৃতি এলাকার ম্যাঙ্গো ক্লাস্টার এবং গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (GAP) অনুসরণকারী বাগান থেকেই এই আম সংগ্রহ করা হয়েছে।
কোন কোন দেশে পৌঁছল মালদহের আম?
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১,৫০০ কেজি আম্রপালি আম সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে রফতানি করা হয়েছে। পাশাপাশি লক্ষণভোগ-সহ অন্যান্য উন্নত জাতের আম ইতালির মিলান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে মালদহের আমের স্বাদ ও গুণমান ইতিমধ্যেই প্রশংসা কুড়িয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের।
![]()
বৈজ্ঞানিক চাষেই মিলেছে সাফল্য
এই সাফল্যের নেপথ্যে রয়েছে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার। ফল ব্যাগিং, সমন্বিত কীট ও রোগ দমন ব্যবস্থা, সুষম সার প্রয়োগ, নিয়মিত গাছের ছাঁটাই, বাগানের পরিচ্ছন্নতা এবং আধুনিক সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন চাষিরা। ফলে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে উন্নত গুণমানের আম উৎপাদন সম্ভব হয়েছে, যা বিদেশি বাজারে রফতানির পথ সুগম করেছে।
প্রশাসন ও কৃষিবিজ্ঞানীদের আশাবাদ
জেলাশাসক রজনবীর সিং কাপুর জানিয়েছেন, প্রশাসন, কৃষক এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এই সাফল্য এসেছে। আগামী দিনে রফতানিমুখী আম চাষ আরও বাড়ানো হবে এবং চাষিদের উন্নত বাজার ও বেশি আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই 'আমার মালদা' প্রকল্পকে আরও বিস্তৃত করা হবে।অন্যদিকে, মালদহ ম্যাঙ্গো মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি উজ্জ্বল সাহার মতে, গুড এগ্রিকালচার প্র্যাকটিস (GAP) অনুসরণ করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে চাষ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে মালদহের আমের গ্রহণযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
প্রশিক্ষণেই বদলেছে চাষের ধরণ
কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা নিয়মিত প্রশিক্ষণ, মাঠ পর্যায়ে প্রদর্শনী এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার মাধ্যমে কৃষকদের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড সম্পর্কে সচেতন করেছেন। সেই প্রশিক্ষণের ফলেই এখন মালদহের আম বিশ্ববাজারে প্রিমিয়াম কৃষিপণ্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
![]()
জেলার অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা
মালদহে প্রায় পাঁচ লক্ষ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। প্রতিবছর প্রায় চার লক্ষ মেট্রিক টন আম উৎপাদিত হলেও এতদিন আন্তর্জাতিক রফতানি তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। এবারের সাফল্য শুধু বিদেশে মালদহের পরিচিতিই বাড়াবে না, বরং কৃষকদের আয় বৃদ্ধি, নতুন বাজার সৃষ্টি এবং জেলার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
![]()
মালদহের আম এবার আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন সাফল্যের নজির গড়ল। 'আমার মালদা' প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ মেট্রিক টন উন্নতমানের আম বিদেশে রফতানি হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইতালির মিলান এবং মধ্যপ্রাচ্যের একাধিক দেশে পৌঁছেছে আম্রপালি, লক্ষণভোগ-সহ বিভিন্ন জনপ্রিয় জাতের আম। প্রশাসন, কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র ও চাষিদের যৌথ উদ্যোগে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে।











