বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের সংকল্প সমাবেশে ডি.কে. শিবকুমারের সমর্থনে স্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ খাড়গের

বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের ‘সংকল্প সমাবেশ’ কর্মসূচিতে ডি.কে. শিবকুমারের সমর্থনে স্লোগান দেওয়ায় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বক্তব্য থামিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং সংগঠনকে ব্যক্তির ঊর্ধ্বে রাখার ওপর জোর দেন।

বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ‘সংকল্প সমাবেশ’ কর্মসূচিতে দলীয় কর্মীদের স্লোগানকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কর্মসূচি চলাকালে কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের সমর্থনে কিছু কর্মী ধারাবাহিকভাবে স্লোগান দিতে শুরু করলে খাড়গে নিজের বক্তব্য মাঝপথে থামিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান।

বেঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত কংগ্রেসের ‘সংকল্প সমাবেশ’ কর্মসূচিতে রাজ্য সরকার ও দলের একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল সাংগঠনিক শক্তিবৃদ্ধি, সরকারের সাফল্য এবং আসন্ন রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে আলোচনা। তবে কর্মসূচি চলাকালে স্লোগানকে ঘিরে ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মল্লিকার্জুন খাড়গে যখন মঞ্চ থেকে কর্মীদের উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মঞ্চের সামনে উপস্থিত কিছু সমর্থক বারবার “ডিকে-ডিকে” স্লোগান দিতে শুরু করেন। এই স্লোগান কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারের সমর্থনে দেওয়া হচ্ছিল। ধারাবাহিক স্লোগানে অস্বস্তি প্রকাশ করে খাড়গে নিজের ভাষণ থামিয়ে কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এটি কোনও একক নেতার কর্মসূচি নয়, বরং কংগ্রেস দলের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান। তিনি স্পষ্ট করেন, দলের পরিচয় কোনও একজন ব্যক্তির মাধ্যমে নয়, বরং সংগঠনের সম্মিলিত শক্তি ও আদর্শের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

নিজের বক্তব্যে কংগ্রেস সভাপতি বলেন, যে কোনও রাজনৈতিক দলের সাফল্য তার সাংগঠনিক কাঠামো এবং কর্মীদের ঐক্যের ওপর নির্ভর করে। তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত সমর্থন প্রদর্শনের পরিবর্তে দলের সামষ্টিক লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। খাড়গে বলেন, কংগ্রেস একটি জাতীয় সংগঠন, যা কয়েক দশক ধরে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। সেই কারণে যে কোনও জনসমক্ষে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা প্রত্যেক কর্মীর দায়িত্ব।

বেঙ্গালুরুতে কংগ্রেসের সংকল্প সমাবেশে ডি.কে. শিবকুমারের সমর্থনে স্লোগানে ক্ষোভ প্রকাশ খাড়গের

তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র স্লোগান দেওয়ার মাধ্যমে কোনও নেতার রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি পায় না; বরং মানুষের মধ্যে করা কাজ এবং সংগঠনের প্রতি নিবেদনই একজন ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় গড়ে তোলে।

ভাষণের সময় মল্লিকার্জুন খাড়গে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, জনজীবন ও রাজনীতিতে তাঁর প্রায় ছয় দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বলেন, কংগ্রেস বছরের পর বছর বহু নেতাকে সুযোগ দিয়েছে এবং দলের মঞ্চের মাধ্যমে অনেক নেতা জাতীয় পরিচিতি অর্জন করেছেন।

খাড়গে জোর দিয়ে বলেন, কংগ্রেসের শক্তি তার সম্মিলিত নেতৃত্ব এবং সাংগঠনিক সংস্কৃতির মধ্যে নিহিত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দলে কোনও ব্যক্তিকে সংগঠনের ঊর্ধ্বে বিবেচনা করা যায় না।

কংগ্রেস সভাপতি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, পুরো কর্মসূচির রেকর্ডিং করা হচ্ছে এবং কেউ যদি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে থাকেন, তবে তাকে চিহ্নিত করা সম্ভব। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, শৃঙ্খলাভঙ্গের ক্ষেত্রে সংগঠন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না। তাঁর এই মন্তব্যকে দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা বজায় রাখার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার সময় কর্ণাটকের উপমুখ্যমন্ত্রী ডি.কে. শিবকুমারও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। স্লোগান বাড়তে থাকলে তিনিও কর্মীদের শান্ত থাকার এবং কর্মসূচি সুশৃঙ্খলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর এই পদক্ষেপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং কর্মসূচির মর্যাদা বজায় রাখার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়।

 

Leave a comment