ঋতুস্রাবের সময় তলপেটের ব্যথা, কোমর যন্ত্রণা, পায়ে টান কিংবা অস্বস্তি—এসব সমস্যা বহু নারীর দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। সাধারণত জরায়ুর সংকোচনের জন্য দায়ী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা বেড়ে গেলে ক্র্যাম্পও তীব্র হয়। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীরে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের অভাব থাকলেও এই ব্যথা আরও বাড়তে পারে। সঠিক খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এই সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন হয় পিরিয়ডসের ক্র্যাম্প?
মাসিক চলাকালীন জরায়ু পুরনো আস্তরণ বের করে দিতে সংকুচিত হয়। এই সংকোচনের জন্য দায়ী প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামের হরমোন-সদৃশ রাসায়নিক। এর মাত্রা বেশি হলে জরায়ুর পেশিতে অতিরিক্ত টান পড়ে, ফলে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, এন্ডোমেট্রিওসিস, ওভারিয়ান সিস্ট, ফাইব্রয়েড, অ্যাডিনোমায়োসিস বা পেলভিক ইনফ্ল্যামেটরি ডিজিজের মতো শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি পুষ্টির ঘাটতিও ব্যথা বাড়িয়ে দিতে পারে।
ভিটামিন ডি-এর অভাব বাড়াতে পারে ব্যথা
ভিটামিন ডি শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর ঘাটতি হলে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের কার্যকারিতা বেড়ে যেতে পারে, ফলে জরায়ুর সংকোচন আরও তীব্র হয়।
ভিটামিন ডি-এর উৎস
সকালের সূর্যের আলো
তৈলাক্ত মাছ
ডিমের কুসুম
ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ ফোর্টিফায়েড দুধ ও খাবার
ভিটামিন বি১ (থায়ামিন) কেন জরুরি?
ভিটামিন বি১ স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর ঘাটতি থাকলে পেশির সংকোচন আরও অস্বস্তিকর হতে পারে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, পর্যাপ্ত থায়ামিন গ্রহণ করলে প্রাথমিক মাসিকের ব্যথার তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কমতে পারে।
ভিটামিন বি১ পাওয়া যায় যেসব খাবারে
লাল চাল ও ব্রাউন রাইস
ওটস
গমের আটা
মসুর ডাল
মটরশুঁটি
সূর্যমুখীর বীজ
বাদাম
ভিটামিন ই প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে
ভিটামিন ই শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে, যার ফলে জরায়ুর অতিরিক্ত সংকোচন ও ব্যথা কিছুটা কমতে পারে।
ভিটামিন ই-এর ভালো উৎস
সূর্যমুখী তেল
গমের অঙ্কুরের তেল
আমন্ড
সূর্যমুখীর বীজ
সবুজ শাকসবজি
ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিতেও বাড়তে পারে ক্র্যাম্প
ম্যাগনেসিয়ামকে প্রাকৃতিক ‘মাসল রিল্যাক্স্যান্ট’ বলা হয়। শরীরে এই খনিজের অভাব হলে জরায়ুর পেশি বেশি টানটান হয়ে যায় এবং ব্যথা আরও তীব্র হতে পারে।
এছাড়া ম্যাগনেসিয়াম প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের অতিরিক্ত উৎপাদন কমাতেও সাহায্য করে।
ম্যাগনেসিয়ামের উৎস
কুমড়োর বীজ
চিয়া বীজ
পালং শাক
কাজুবাদাম
কাঠবাদাম
ডার্ক চকোলেট
ডাল ও শিমজাতীয় খাবার
কলা
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি?
যদি প্রতি মাসেই অসহনীয় ব্যথা হয়, ব্যথানাশক খেলেও উপশম না হয়, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে অবশ্যই স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কারণ অনেক সময় এর নেপথ্যে অন্য কোনও গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যা থাকতে পারে।
মাসিকের সময় তীব্র তলপেটের ব্যথা বা ক্র্যাম্প অনেক নারীরই নিত্যসঙ্গী। তবে শুধু হরমোন নয়, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি১, ভিটামিন ই এবং ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতিও এই যন্ত্রণা বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন পুষ্টি উপাদান কীভাবে কাজ করে এবং কোন খাবার থেকে তা পাওয়া যায়, রইল বিস্তারিত।













