ব্যস্ত জীবনে সময় বাঁচাতে মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিকের বাক্সে খাবার গরম করা এখন ঘরে ঘরে স্বাভাবিক অভ্যাস। কিন্তু এই সহজ রুটিনই কি ধীরে ধীরে শরীরের ক্ষতি করছে? সাম্প্রতিক চিকিৎসা মতামত বলছে—এই অভ্যাস থেকে তিলে তিলে শরীরে ঢুকছে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক।
কেন বিপজ্জনক হতে পারে প্লাস্টিকের পাত্র?
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, প্লাস্টিককে যখন উচ্চ তাপমাত্রার মাইক্রোওয়েভে গরম করা হয়, তখন তার গঠন দুর্বল হয়ে যায়। এর ফলে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক—অতি সূক্ষ্ম কণা, যা চোখে দেখা যায় না কিন্তু শরীরে প্রবেশ করে।
BPA ও Phthalates-এর ঝুঁকি
বিশেষত তৈলাক্ত, ঝাল বা অ্যাসিডিক খাবার গরম করলে কিছু প্লাস্টিক থেকে BPA ও phthalates-এর মতো রাসায়নিক নির্গত হতে পারে। এই উপাদানগুলি শরীরের হরমোনের সঙ্গে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে চিকিৎসকদের আশঙ্কা।
চিকিৎসকদের কী মত?
দিল্লির এক শীর্ষ হাসপাতালের চিকিৎসকের মতে, “এক–দু’বার প্লাস্টিকে খাবার গরম করলে বড় ক্ষতি নাও হতে পারে, কিন্তু বছরের পর বছর একই অভ্যাস থাকলে শরীরের উপর তার নীরব প্রভাব পড়তে পারে।”গুরুগ্রামের এক বিশেষজ্ঞও জানান, এই ক্ষতি একদিনে বোঝা যায় না, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তা জমতে থাকে।
‘Microwave-safe’ মানেই কি নিরাপদ?
অনেক পাত্রে ‘মাইক্রোওয়েভ-নিরাপদ’ লেখা থাকলেও, তার অর্থ রাসায়নিক-মুক্ত নয়। এই লেবেল শুধু বোঝায় যে পাত্রটি গলে যাবে না। তবে পুরনো, আঁচড় ধরা বা ফাটা পাত্র থেকে রাসায়নিক নির্গমনের ঝুঁকি বেশি।
শিশুদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন এই ধরনের এক্সপোজার শিশুদের ক্ষেত্রে হরমোন, থাইরয়েড, বিপাক এমনকি বয়ঃসন্ধি সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। পরিবর্তন ধীরে আসে, তাই অনেক সময় বোঝাও যায় না।
নিরাপদ বিকল্প কী?
চিকিৎসকদের পরামর্শ—
মাইক্রোওয়েভে খাবার গরম করতে কাচ বা সিরামিক পাত্র ব্যবহার করুন
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বা টেক-অ্যাওয়ে বাক্স এড়িয়ে চলুন
খাবার ঢাকতে প্লাস্টিক র্যাপের বদলে কাগজের তোয়ালে বা মাইক্রোওয়েভ-সেফ ঢাকনা ব্যবহার করুন
মাইক্রোওয়েভে প্লাস্টিকের পাত্র ব্যবহার করলে খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্ষতিকর রাসায়নিক। তাৎক্ষণিক ক্ষতি না হলেও দীর্ঘদিনের অভ্যাসে ত্বকের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও বিপাকজনিত ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন চিকিৎসকরা।













