মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে মুজফ্ফরপুরের লাহ শিল্পে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বিক্রিতে পতন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে মুজফ্ফরপুরের ঐতিহ্যবাহী লাহ শিল্পে কাঁচামালের দাম বেড়েছে এবং সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও বিক্রিতে প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত পতন ঘটেছে। ব্যবসায়ী ও কারিগররা সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে মুজফ্ফরপুরের লাহ শিল্পে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও বিক্রিতে পতন
Photo Credit / Attribution: google

মুজফ্ফরপুরে ঐতিহ্যবাহী ‘লাহের লহঠি’ তৈরির শিল্প বর্তমানে সংকটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব স্থানীয় বাজারে পড়েছে, যার ফলে কাঁচামালের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং ব্যবসায় প্রভাব দেখা গেছে।

ব্যবসায়ীদের মতে, লাহ এবং সংশ্লিষ্ট কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রভাব সরাসরি প্রস্তুত পণ্যের দামে পড়েছে, ফলে ‘লাহের লহঠি’ আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। দামের বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের চাহিদা কমেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গত কয়েক মাসে বিক্রি প্রায় ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। আগে যেখানে উৎসব ও বিয়ের মরশুমে এই লহঠির চাহিদা বেশি থাকত, এখন মূল্যবৃদ্ধির কারণে ক্রেতারা কেনাকাটা এড়িয়ে চলছেন।

এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের ওপরও প্রভাব পড়েছে। অনেক কারিগরের কাজ কমে গেছে, ফলে তাদের জীবিকা সংকটে পড়েছে। কিছু ছোট ব্যবসায়ী সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করার কথাও জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার কারণে আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে, যার ফলে কাঁচামালের প্রাপ্যতা কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে। পাশাপাশি পরিবহন খরচও বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে মোট খরচ আরও বেড়েছে।

ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাদের বক্তব্য, দ্রুত কোনো পদক্ষেপ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তারা কাঁচামালের ওপর ভর্তুকি এবং আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব দৃশ্যমান। দোকানে আগের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কমেছে এবং বিক্রি ধারাবাহিকভাবে কমছে। ব্যবসায়ীদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে ক্ষতি আরও বাড়তে পারে।

মোটের ওপর, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাব মুজফ্ফরপুরের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে বৃদ্ধি পাওয়া খরচ এবং কমে যাওয়া চাহিদা ব্যবসায়ী ও কারিগরদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

Leave a comment