পর্দায় নানা চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের জন্য পরিচিত শ্বেতা ত্রিপাঠি। কিন্তু বাস্তব জীবনে এমন এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে, যা তাঁকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল। চিকিৎসকের কাছ থেকে নিজের প্রজনন ক্ষমতা কম হওয়ার কথা শুনে ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্টে এসে মাতৃত্ব, পরিবার এবং সমাজের প্রত্যাশা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তিনি।
‘মির্জাপুর’-এর গোলু গুপ্তার ব্যক্তিগত জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতা
ওটিটি দুনিয়ার জনপ্রিয় সিরিজ ‘মির্জাপুর’-এ গোলু গুপ্তার চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের নজর কেড়েছেন শ্বেতা ত্রিপাঠি। সম্প্রতি সোহা আলি খানের পডকাস্ট ‘অল অ্যাবাউট হার’-এ অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন অভিনেত্রী।সেখানে আলোচনা হয় বিয়ে, সন্তান, মাতৃত্ব-পিতৃত্ব এবং বদলে যাওয়া সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে। কথার ফাঁকেই নিজের প্রজনন ক্ষমতা নিয়ে পাওয়া চিকিৎসকের মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন শ্বেতা।
চিকিৎসকের কথা শুনে কেন ভেঙে পড়েছিলেন অভিনেত্রী?
শ্বেতা জানান, একসময় তিনি জানতে পারেন তাঁর প্রজনন ক্ষমতা কম। এই খবর তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দিয়েছিল। তবে তাঁর কষ্টের কারণ শুধু সন্তান ধারণের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল না। বরং সন্তান নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিজের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি।অভিনেত্রীর কথায়, তিনি চাননি অন্য কেউ তাঁকে জানিয়ে দিক যে তাঁর সন্তান হবে না। সেই সময় নিজেও মাতৃত্ব নিয়ে নিশ্চিত ছিলেন না। কিন্তু নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা হারানোর অনুভূতিই তাঁকে বেশি আঘাত করেছিল।
মাতৃত্ব নিয়ে বদলে গিয়েছে তাঁর ভাবনাও
শ্বেতা জানান, একটা সময় তিনি নিজের ভবিষ্যৎ কল্পনা করতেন সন্তানদের সঙ্গে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাতৃত্বের দায়িত্ব ও বাস্তব দিকগুলি কাছ থেকে দেখার পর তাঁর ভাবনায় পরিবর্তন আসে।বন্ধুদের এবং পরিবারের অন্য মহিলাদের সন্তান সামলাতে দেখে তিনি বুঝেছেন, মা হওয়া মোটেও সহজ নয়। তাঁর মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার পর একজন মায়ের উপর কতটা দায়িত্ব এসে পড়ে, তা বাইরে থেকে সবসময় বোঝা যায় না।পডকাস্টে অভিনেত্রী বলেন, মায়েদের প্রতিদিনের দায়িত্ব সামলাতে অনেক সাহস, শক্তি ও ত্যাগের প্রয়োজন হয়। তাই সমস্ত মায়ের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা রয়েছে।
শ্বশুরবাড়ি ও পরিবারের কাছ থেকে কি চাপ এসেছিল?
সন্তান নেওয়া নিয়ে পরিবারের তরফ থেকে কোনও চাপের মুখে পড়তে হয়নি বলেও জানিয়েছেন শ্বেতা। তাঁর বক্তব্য, দুই পরিবারই তাঁকে যথেষ্ট সমর্থন করেছে। পরিবারের সদস্যদের দাদু-ঠাকুমা বা অন্য আত্মীয় হিসেবে নতুন ভূমিকা পাওয়ার ইচ্ছা থাকলেও তাঁরা কখনও অভিনেত্রীকে অস্বস্তিতে ফেলেননি।তবে বিয়ে নিয়ে একটা সময় আশপাশের মানুষের কাছ থেকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছিল তাঁকে। ৩৩ বছর বয়সে বিয়ের আগে প্রায়ই তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হত, কবে বিয়ে করবেন। অভিনেত্রীর মতে, এই চাপ নিজের বাবা-মায়ের কাছ থেকে নয়, বরং সমাজের অন্যান্য মানুষের কাছ থেকেই এসেছিল।
সন্তান নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় এখনও?
শ্বেতা আরও জানান, পরিবারের নতুন সদস্যের জন্মের পর কখনও কখনও তাঁকে ঘিরেও সন্তান নেওয়ার প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর ননদ সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মজা করে জানতে চেয়েছিলেন, এবার কি তাঁর পালা? কবে তিনি সুখবর দেবেন?তবে শ্বেতার কথায়, তাঁর শাশুড়ি এবং ননদ শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বুঝেছেন এবং তাঁকে কোনও রকম চাপ দেননি। পরিবারের এই সহযোগিতা তাঁর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘মির্জাপুর’-এর গোলু গুপ্তা চরিত্রে জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা ত্রিপাঠি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের এক কঠিন অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন। সোহা আলি খানের পডকাস্টে এসে তিনি জানিয়েছেন, নিজের প্রজনন ক্ষমতা কম হওয়ার কথা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। কারণ, সন্তান নেবেন কি না, সেই সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে দুই পরিবারের কাছ থেকেই পেয়েছেন সমর্থন, সন্তান নেওয়ার জন্য কোনও চাপ দেওয়া হয়নি তাঁকে।








