অযোধ্যায় আধ্যাত্মিক করিডর ও ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ বিধায়কের

অযোধ্যার রুদৌলিতে মা কামাখ্যা ধাম থেকে মেঘা ঋষি আশ্রম পর্যন্ত আধ্যাত্মিক করিডর এবং জাতীয় সড়ক-২৭-এ ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে পেশ করলেন বিধায়ক রামচন্দ্র যাদব।

অযোধ্যার রুদৌলি এলাকার ধর্মীয় পর্যটন পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে দুটি প্রস্তাব পেশ করলেন বিধায়ক রামচন্দ্র যাদব। মা কামাখ্যা ধাম থেকে মেঘা ঋষি আশ্রম পর্যন্ত আধ্যাত্মিক করিডর নির্মাণের পাশাপাশি জাতীয় সড়ক-২৭-এ ট্রমা সেন্টার স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। বিধায়কের দাবি, দুটি প্রস্তাবেই ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

অযোধ্যার রুদৌলি এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থানগুলিকে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনতে আধ্যাত্মিক করিডর নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন বিধায়ক রামচন্দ্র যাদব। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের কাছে জমা দেওয়া প্রস্তাবে মা কামাখ্যা ধাম থেকে মেঘা ঋষি আশ্রম পর্যন্ত এই করিডর গড়ে তোলার দাবি জানানো হয়েছে।

বিধায়কের মতে, দুটি ধর্মীয় স্থানের মধ্যে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে পুণ্যার্থীদের যাতায়াত আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের অন্যান্য ধর্মীয় স্থানগুলিতেও পৌঁছনোর সুবিধা বাড়বে। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল এলাকার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি পর্যটন-সংক্রান্ত পরিকাঠামোর উন্নয়ন।

মা কামাখ্যা ধাম এবং মেঘা ঋষি আশ্রম স্থানীয় বাসিন্দাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে আগত পুণ্যার্থীদের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই আধ্যাত্মিক করিডর তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

বিধায়কের দাবি, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এলাকায় পর্যটক ও পুণ্যার্থীদের আগমন বাড়তে পারে। এর ফলে স্থানীয় দোকানদার, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং পর্যটন ক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও উপকৃত হতে পারেন।

অযোধ্যায় আধ্যাত্মিক করিডর ও ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেশ বিধায়কের

তবে আপাতত করিডর নির্মাণের প্রস্তাব মুখ্যমন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয়, বিস্তারিত পরিকল্পনা এবং কাজ শুরুর সম্ভাব্য তারিখ সম্পর্কে এখনও কোনও তথ্য সামনে আসেনি।

আধ্যাত্মিক করিডরের পাশাপাশি রুদৌলি এলাকায় উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও মুখ্যমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেছেন বিধায়ক রামচন্দ্র যাদব। জাতীয় সড়ক-২৭-এ একটি ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাব জমা দিয়েছেন তিনি।

জাতীয় সড়ক-২৭ দিয়ে নিয়মিত যানবাহন চলাচল করে। এই রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটলে গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা জরুরি। সেই পরিস্থিতিতে এলাকায় ট্রমা সেন্টার তৈরি হলে দুর্ঘটনায় আহতদের প্রাথমিক জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে।

বিধায়কের মতে, ট্রমা সেন্টার স্থাপিত হলে আহতদের চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমতে পারে। এর ফলে সময় সাশ্রয়ের পাশাপাশি গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে।

প্রস্তাবে স্থানীয় স্তরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রমা সেন্টারের নির্দিষ্ট স্থান, বাজেট, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

বিধায়ক রামচন্দ্র যাদব জানিয়েছেন, ১৯ জুন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মা কামাখ্যা ধাম সফরের সময় দেওয়া নির্দেশনার ভিত্তিতেই এই দুটি প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সময় তিনি আধ্যাত্মিক করিডর নির্মাণ এবং ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। বিধায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, দুটি প্রস্তাব নিয়েই ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

তবে প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরের অনুমোদন, বাজেট বরাদ্দ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। এখনও প্রস্তাব দুটির চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়নি।

এই পরিস্থিতিতে আধ্যাত্মিক করিডর এবং ট্রমা সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।

 

Leave a comment