মুজাফ্ফরপুরে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এবং পতাহী বিমানবন্দর প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন সম্রাট চৌধুরী

বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী আগামী ১০ দিনের মধ্যে মুজাফ্ফরপুরে প্রস্তাবিত প্রথম আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এবং পতাহী বিমানবন্দর প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন। প্রশাসনভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুজাফ্ফরপুরে আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট এবং পতাহী বিমানবন্দর প্রকল্পের শিলান্যাস করবেন সম্রাট চৌধুরী
Photo Credit / Attribution: Google

মুজাফ্ফরপুরে শিগগিরই দুটি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী আগামী ১০ দিনের মধ্যে আবারও মুজাফ্ফরপুর সফর করবেন। প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী তিনি বিহারের প্রথম আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের নির্মাণকাজের শিলান্যাস করবেন। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা পতাহী বিমানবন্দর প্রকল্পেরও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

রাজ্য সরকারের মতে, প্রস্তাবিত আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট বিহারে এই ধরনের প্রথম বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হবে। এর উদ্দেশ্য রাজ্যের শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিগত শিক্ষা প্রদান এবং জাতীয় মানের সুবিধা নিশ্চিত করা। প্রতিষ্ঠানটি চালু হলে শিক্ষার্থীদের উচ্চতর প্রযুক্তিগত শিক্ষার জন্য রাজ্যের বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং স্থানীয় পর্যায়েই মানসম্মত প্রযুক্তিগত শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

পতাহী বিমানবন্দর প্রকল্পকে মুজাফ্ফরপুর এবং উত্তর বিহারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিমানবন্দরটি উন্নয়ন করা হলে অঞ্চলের আকাশপথে সংযোগ উন্নত হবে এবং বাণিজ্য, শিল্প, পর্যটন ও বিনিয়োগে গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিল্পমহল এই প্রকল্পের কাজ শুরুর অপেক্ষায় ছিলেন।

প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মতে, শিলান্যাস অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানস্থল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যান চলাচল ব্যবস্থাপনা এবং অন্যান্য প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উপমুখ্যমন্ত্রীর সফরকে সামনে রেখে জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করছেন।

প্রযুক্তিগত শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠলে বিহারে প্রকৌশল শিক্ষার নতুন দিক উন্মোচিত হবে। আর্কিটেকচার ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে আধুনিক পরীক্ষাগার, গবেষণা সুবিধা এবং শিল্পখাত-সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান এবং দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

পতাহী বিমানবন্দর নির্মিত হলে মুজাফ্ফরপুর, সীতামঢ়ি, শিবহর, পূর্ব চম্পারণ, পশ্চিম চম্পারণ, বৈশালী এবং আশপাশের জেলার মানুষ উপকৃত হওয়ার আশা করা হচ্ছে। উন্নত আকাশপথ সংযোগের মাধ্যমে ব্যবসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং পর্যটন কার্যক্রমে গতি আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা এবং জনপ্রতিনিধিরা দুই প্রকল্পকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, পরিকল্পনাগুলো সময়মতো বাস্তবায়িত হলে উত্তর বিহারের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তাদের মতে, শিক্ষা ও পরিবহন খাতে এই বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করবে এবং তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে উপমুখ্যমন্ত্রীর প্রস্তাবিত সফর এবং শিলান্যাস অনুষ্ঠানকে ঘিরে প্রস্তুতি চলছে। প্রশাসনের দাবি, নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী সব প্রস্তুতি সময়মতো সম্পন্ন করা হবে, যাতে উভয় প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়েই শুরু করা যায়।

Leave a comment