বর্ষাকালে সবুজ শাকসবজি যতই পুষ্টিকর হোক, পরিষ্কার না করে রান্না করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। শাকের পাতার ভাঁজে কাদা, ক্ষুদ্র পোকা, জীবাণু এমনকি ছত্রাকও লুকিয়ে থাকতে পারে। তাই রান্নার আগে কয়েকটি সহজ নিয়ম মেনে শাক ধোয়া জরুরি বলে পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বর্ষায় কোন কোন শাকে বেশি সতর্ক থাকবেন?
বর্ষার সময় বিশেষভাবে সতর্কতার সঙ্গে পরিষ্কার করা উচিত—
পালং শাক
মেথি শাক
পুঁই শাক
লাল শাক
ধনেপাতা (এছাড়াও লেটুসজাতীয় পাতাও)
এসব পাতাযুক্ত সবজিতে আর্দ্রতার কারণে সহজেই ময়লা, পোকামাকড় ও অণুজীব জমে থাকতে পারে।
কীভাবে পরিষ্কার করবেন শাক?
নষ্ট বা হলুদ পাতা আগে আলাদা করুন
শাক ধোয়ার আগে শুকিয়ে যাওয়া, পচা বা হলুদ হয়ে যাওয়া পাতাগুলি ফেলে দিন। এগুলো অন্য পাতায় জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
প্রবাহমান জলে ভালোভাবে ধুয়ে নিন
প্রতিটি পাতাকে আলাদা করে চলমান পরিষ্কার জলের নিচে ধুয়ে নিন। হাত দিয়ে আলতোভাবে ঘষে পাতার ভাঁজে জমে থাকা কাদা ও ছোট পোকা বের করে ফেলুন।
পরিষ্কার জলে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখুন
একটি বড় পাত্রে পরিষ্কার জল নিয়ে শাক ২-৩ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। এরপর জল নোংরা হলে নতুন জল দিয়ে একই প্রক্রিয়া আবার করুন।
লবণ বা সাদা ভিনিগার—এই দুই উপাদান কাজে লাগান
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত পরিষ্কারের জন্য—
১ চা-চামচ লবণ, অথবা
২ টেবিল-চামচ সাদা ভিনিগার
পরিষ্কার জলে মিশিয়ে শাক ৫-১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। এরপর অবশ্যই আবার পরিষ্কার জল দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এতে কিছু ব্যাকটেরিয়া, ছোট পোকামাকড় এবং ময়লা দূর করতে সাহায্য মিলতে পারে।
ধোয়ার পর শুকিয়ে সংরক্ষণ করুন
শাক ধোয়ার পরে ঝাঁঝরিতে জল ঝরিয়ে নিন। এরপর পরিষ্কার কাপড় বা কিচেন টিস্যু দিয়ে আলতোভাবে শুকিয়ে ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। অতিরিক্ত আর্দ্রতা থাকলে শাক দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
রান্নার ঠিক আগে ধোয়াই ভালো
অনেকেই বাজার থেকে এনে সঙ্গে সঙ্গে শাক ধুয়ে রাখেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সম্ভব হলে রান্নার ঠিক আগে ধোয়া ভালো। দীর্ঘ সময় ভেজা অবস্থায় রেখে দিলে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বাড়তে পারে।
যা কখনও করবেন না
শাক বা সবজি পরিষ্কার করতে কখনও—
বাসন ধোয়ার সাবান,
ডিটারজেন্ট,
ব্লিচ বা রাসায়নিক ক্লিনার
ব্যবহার করবেন না। এগুলো খাবারের জন্য নিরাপদ নয় এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ থেকে যেতে পারে।
বর্ষাকালে বাজারে পালং, মেথি, পুঁই, লালশাক ও ধনেপাতার মতো শাকের চাহিদা বাড়ে। তবে বৃষ্টির কারণে এসব শাকে কাদা, ক্ষুদ্র পোকামাকড়, ব্যাকটেরিয়া ও কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকার ঝুঁকিও বেড়ে যায়।













