নৈনিতালে গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১২০ মিমি বৃষ্টি, নৈনি ঝিলের জলস্তর ৮৮ ফুট ছাড়াল
উত্তরাখণ্ডের নৈনিতালে লাগাতার ভারী বৃষ্টিতে পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শহরে প্রায় ১২০ মিমি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে। এর পর নৈনি ঝিলের জলস্তর দ্রুত বেড়ে ৮৮ ফুট ছাড়িয়ে গেছে। ঝিলে ক্রমাগত জল বাড়তে থাকায় অতিরিক্ত জল নিষ্কাশনের জন্য প্রশাসন ও সেচ দফতর সব কটি চ্যানেল খুলে দিয়েছে। ভারী বৃষ্টির মধ্যে ঝিলের জলস্তরের উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে।
বৃষ্টির প্রভাব নৈনিতাল শহর এবং আশপাশের পার্বত্য এলাকাতেও দেখা যাচ্ছে। লাগাতার বৃষ্টিতে রাস্তা ভিজে সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। বেশ কয়েকটি স্থানে পাহাড় থেকে ধসের মাটি এবং ছোট-বড় পাথর পড়ার আশঙ্কা বেড়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নৈনি ঝিলের জলস্তর বৃদ্ধি নৈনিতালের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি। লাগাতার বৃষ্টি এবং আশপাশের জলগ্রহণ এলাকা থেকে জল আসার কারণে ঝিলের জলস্তর দ্রুত বাড়ছে। জল নির্ধারিত নিরাপদ সীমার কাছাকাছি পৌঁছালে চ্যানেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত জল বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সব কটি চ্যানেল খুলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ঝিলে জলের চাপ কমানো যায়।
গত কয়েক দিন ধরে উত্তরাখণ্ডের কুমায়ুন অঞ্চলে বৃষ্টির দাপট বেড়েছে। নৈনিতালও এর প্রভাবে রয়েছে। ভারী বৃষ্টিতে একদিকে যেমন ঝিলের জলস্তর বেড়েছে, অন্যদিকে পার্বত্য এলাকায় ধস এবং রাস্তা অবরুদ্ধ হওয়ার আশঙ্কাও বেড়েছে। প্রশাসন সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে নজরদারি চালাচ্ছে।
নৈনি ঝিলের জলস্তর বাড়ার সঙ্গে শহরের নিচু এলাকাগুলিতেও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার উপর নজর রাখা হচ্ছে। বৃষ্টি একইভাবে চলতে থাকলে ঝিলে জলের প্রবাহ আরও বাড়তে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট দফতরগুলি জলস্তর নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা আরও সক্রিয় করা যেতে পারে।
ভারী বৃষ্টির সময় নৈনিতালে আসা পর্যটকদেরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য রাস্তায় আচমকা ধসের মাটি বা বড় পাথর পড়তে পারে। বৃষ্টির সময় এই ধরনের রাস্তায় গাড়ি চালানো ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অপ্রয়োজনীয়ভাবে সংবেদনশীল এলাকায় না যাওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে।
নৈনি ঝিলের জলস্তর বাড়ার সঙ্গে ঝিলের সঙ্গে যুক্ত সেচ ও জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত জল নিয়ন্ত্রিতভাবে বাইরে বের করে দেওয়ার জন্য চ্যানেল খোলা হয়। এর ফলে ঝিলের জলস্তর নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং আশপাশের এলাকায় জল জমার আশঙ্কা কমানো যেতে পারে।
নৈনিতালে বৃষ্টির এই পরিস্থিতি উত্তরাখণ্ডের অন্যান্য পার্বত্য জেলায় চলতে থাকা খারাপ আবহাওয়ার মধ্যে এসেছে। লাগাতার বৃষ্টির কারণে বেশ কয়েকটি জায়গায় সড়ক যোগাযোগ প্রভাবিত হয়েছে। প্রশাসন ও বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরকে সতর্ক রাখা হয়েছে। যেকোনও জরুরি পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও উদ্ধারকারী দলকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগের বছরগুলিতেও ভারী বৃষ্টির সময় নৈনি ঝিলের জলস্তর দ্রুত বেড়েছে। ঐতিহাসিক রেকর্ড অনুযায়ী, ঝিলের সর্বোচ্চ জলস্তর প্রায় ১২ ফুটের মাপকাঠিতে নথিভুক্ত করা হয় এবং বেশি বৃষ্টি হলে অতিরিক্ত জল বের করার জন্য নিষ্কাশন দ্বার খোলা হয়।
বর্তমানে নৈনিতালে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ লাগাতার বৃষ্টি এবং এর ফলে তৈরি হওয়া ধসের আশঙ্কা নিয়ে। ঝিলের জলস্তর ৮৮ ফুট ছাড়িয়ে যাওয়ার পর সব কটি চ্যানেল খুলে দেওয়া হয়েছে এবং প্রশাসন পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। বৃষ্টি কমলে জলস্তর স্থিতিশীল হওয়ার আশা রয়েছে, তবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নিষ্কাশন ব্যবস্থা ক্রমাগত চালু রাখতে হতে পারে।












