১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই বদলাতে পারে আবহাওয়ার ছবি। বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় তৈরি নিম্নচাপ এবং তার সঙ্গে সক্রিয় ঘূর্ণাবর্তের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বৃষ্টির দাপট বাড়ার সম্ভাবনা। কোথাও ভারী, কোথাও অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় টানা বৃষ্টির জেরে ধস নামার ঝুঁকিও রয়েছে।
কেন এত বৃষ্টি? রয়েছে নিম্নচাপ ও ঘূর্ণাবর্তের প্রভাব
আবহাওয়া দফতরের বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ এবং সংলগ্ন উত্তর উপকূলীয় ওড়িশা ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় একটি নিম্নচাপ সক্রিয় রয়েছে। এর পাশাপাশি ঘূর্ণাবর্ত এবং মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবও রয়েছে।এই একাধিক আবহাওয়া ব্যবস্থার সম্মিলিত প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। আগামী কয়েক দিন পরিস্থিতির বিশেষ পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে কোথায় ভারী বৃষ্টি?
১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর সঙ্গে কিছু এলাকায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঘণ্টায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।
পরবর্তী পর্যায়ে অর্থাৎ ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং বীরভূম জেলাতেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
উত্তরবঙ্গে আরও ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার সম্ভাবনা। ১ সেপ্টেম্বর সকাল পর্যন্ত দার্জিলিং ও জলপাইগুড়িতে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।এছাড়া কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু একদিন নয়, ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে বৃষ্টির প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
পাহাড়ে ধসের আশঙ্কা
উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকায় একটানা বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। বিশেষ করে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ধস নামার ঝুঁকি রয়েছে।পাহাড়ি রাস্তায় জল ও কাদামাটি জমে যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই এই সময়ে পাহাড়ি পথে যাঁদের যাতায়াতের পরিকল্পনা রয়েছে, তাঁদের আবহাওয়ার সর্বশেষ আপডেট দেখে বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কোথায় জল জমার আশঙ্কা?
প্রবল বৃষ্টির ফলে নিচু এলাকাগুলিতে জল জমতে পারে। পাশাপাশি রাস্তার সাবওয়ে, আন্ডারপাস ও নিচু অংশে সাময়িক জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।শহর ও জেলার নিচু এলাকাগুলিতে বসবাসকারীদের তাই সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কৃষিক্ষেত্রেও ক্ষতির আশঙ্কা
টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে কৃষিক্ষেত্রেও। জমিতে দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা পাকার মুখে থাকা ফসল অতিরিক্ত বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বিশেষ করে যেসব এলাকায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে, সেখানে কৃষকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বজ্রপাতের সময় কী করবেন?
বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হলে খোলা জায়গায় না থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ কোনও ঘর বা আশ্রয়ে থাকা সবচেয়ে ভালো।
এই সময়ে—
গাছের নিচে দাঁড়াবেন না।
বিদ্যুতের খুঁটি বা তারের কাছাকাছি থাকবেন না।
জলাশয়, পুকুর বা অন্য জলভাগের কাছে যাবেন না।
প্রবল বৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনে বাইরে বেরোনো এড়িয়ে চলুন।
পাহাড়ি এলাকায় রাস্তার পরিস্থিতি না জেনে যাত্রা করবেন না।
পশ্চিমবঙ্গের আকাশে ফের দুর্যোগের ঘনঘটা। সক্রিয় নিম্নচাপ, ঘূর্ণাবর্ত ও মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে রয়েছে ধসের আশঙ্কাও।











