নকল গোলমরিচ চিনবেন কীভাবে? ১ গ্লাস জলে পরীক্ষা করার আগে জেনে নিন আসল-ভেজাল চেনার সহজ উপায়

বাজারের গোলমরিচে ভেজাল রয়েছে কি না, বুঝবেন কীভাবে? দানার গঠন, গন্ধ, জলের পরীক্ষার সীমাবদ্ধতা ও নিরাপদে গোলমরিচ কেনার উপায় জানুন।

গরম স্যুপ হোক কিংবা মাছ-মাংসের ঝোল—এক চিমটি গোলমরিচ খাবারের স্বাদ অনেকটাই বাড়িয়ে দিতে পারে। কিন্তু বাজার থেকে কেনা গোলমরিচ খাঁটি কি না, তা নিয়ে অনেকেরই সংশয় থাকে। শুকনো পেঁপের বীজের মতো দেখতে অন্য বীজ গোলমরিচের সঙ্গে মেশানো হলে প্রথম দেখায় পার্থক্য বোঝা কঠিন হতে পারে। তাই কেনার সময় কী কী বিষয় খেয়াল রাখবেন এবং ঘরে প্রাথমিকভাবে কীভাবে পরীক্ষা করবেন, জেনে নিন।

কেন গোলমরিচে ভেজাল মেশানো হতে পারে?

গোলমরিচ একটি পরিচিত মশলা। স্যুপ, স্যালাড, গ্রেভি, বিভিন্ন মশলার মিশ্রণ এবং নানা পদে এর ব্যবহার রয়েছে। ভারতের কেরালা-সহ একাধিক রাজ্যে গোলমরিচ চাষ হয়।

দামি মশলার সঙ্গে সস্তা বীজ মিশিয়ে বিক্রি করলে অসাধু ব্যবসায়ীদের লাভ বাড়তে পারে। শুকনো পেঁপের বীজ দেখতে কিছুটা গোলমরিচের মতো হওয়ায় সেটি নিয়ে ভেজালের আশঙ্কার কথা প্রায়ই বলা হয়। তবে কোনও নির্দিষ্ট পণ্য পরীক্ষা না করে তাতে ভেজাল রয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না।

দানার গঠন ও রং খেয়াল করুন

আসল গোলমরিচের দানা সাধারণত গোলাকার, শক্ত এবং বাইরের দিকে কুঁচকানো হয়। দানার আকারে কিছুটা পার্থক্য থাকতেই পারে। তাই সব দানা একেবারে একই রকম না হলেই সেটিকে ভেজাল ভাবার কারণ নেই।

কেনার সময় অস্বাভাবিক মসৃণ, অতিরিক্ত চকচকে বা দেখতে একেবারেই আলাদা দানা চোখে পড়লে সতর্ক হোন। তবে শুধু রং বা বাহ্যিক চেহারা দেখে খাঁটি-নকলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

গন্ধ পরীক্ষা করে দেখুন

গোলমরিচের নিজস্ব ঝাঁঝালো সুগন্ধ থাকে। কয়েকটি দানা হাতে নিয়ে হালকা ঘষলে সেই গন্ধ কিছুটা স্পষ্ট হতে পারে।

যদি গোলমরিচে স্বাভাবিক গন্ধ খুব কম থাকে বা অস্বাভাবিক গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে পণ্যটির গুণমান নিয়ে সন্দেহ হতে পারে। তবে গন্ধ কম হলেই গোলমরিচ নকল—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। পুরনো বা ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা গোলমরিচের গন্ধও কমে যেতে পারে।

এক গ্লাস জলে পরীক্ষা করলেই কি ভেজাল ধরা পড়বে?

গোলমরিচের দানা পরিষ্কার জলে দিয়ে দেখা যায়, কিছু দানা ডুবে যায় এবং কিছু ভেসে থাকে কি না। কিন্তু এই পরীক্ষার ফলকে খাঁটি বা ভেজাল নির্ধারণের নির্ভরযোগ্য উপায় হিসেবে ধরা উচিত নয়।

দানার ঘনত্ব, আর্দ্রতা, আকার এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের কারণে ভাসা বা ডোবার পার্থক্য হতে পারে। তাই জলে ডুবে থাকা দানা খাঁটি এবং ভেসে থাকা দানা ভেজাল—এমন কোনও নিশ্চিত নিয়ম নেই। সন্দেহ হলে পরীক্ষাগারে খাদ্যপণ্যের গুণমান যাচাই করাই বেশি নির্ভরযোগ্য।

ভেজাল গোলমরিচ খেলে কী সমস্যা হতে পারে?

ভেজাল পণ্যে কী মেশানো হয়েছে এবং তা কতটা ক্ষতিকর, তার উপর স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নির্ভর করে। ক্ষতিকর রং, দূষিত উপাদান বা অনুপযুক্ত পদার্থ থাকলে তা খাওয়ার ফলে অসুস্থতা দেখা দিতে পারে।

সম্ভাব্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে:

- পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি

- বমি বমি ভাব বা বমি

- ডায়রিয়া

- কিছু উপাদানের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া

তবে গোলমরিচ খেলেই এই সমস্যাগুলি হবে, এমন নয়। খাবার খাওয়ার পর বারবার বমি, তীব্র ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট বা অন্য গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

গোলমরিচ কেনার সময় কোন বিষয়গুলি মনে রাখবেন?

ভেজাল এড়াতে কেনাকাটার সময় কয়েকটি সতর্কতা মেনে চলুন।

- বিশ্বস্ত বিক্রেতার কাছ থেকে কিনুন: পরিচিত দোকান বা নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নিন।

- প্যাকেটের তথ্য পড়ুন: প্রস্তুতকারক, ব্যাচ নম্বর, উৎপাদন ও মেয়াদ-সংক্রান্ত তথ্য পরীক্ষা করুন।

- FSSAI লাইসেন্স বা নিবন্ধনের তথ্য দেখুন: প্যাকেটজাত পণ্যে দেওয়া নম্বরের সত্যতা যাচাই করার সুযোগ থাকলে তা কাজে লাগান।

- অস্বাভাবিক কম দাম দেখে সতর্ক হোন: বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দাম মানেই ভেজাল নয়, তবে পণ্যের উৎস যাচাই করা প্রয়োজন।

- খোলা ও সন্দেহজনক পণ্য এড়িয়ে চলুন: প্যাকেট ছেঁড়া, স্যাঁতসেঁতে বা অস্বাভাবিক গন্ধযুক্ত গোলমরিচ না কেনাই ভালো।

রান্নার স্বাদ ও গন্ধ বাড়াতে গোলমরিচের ব্যবহার প্রায় প্রতিটি ভারতীয় রান্নাঘরেই রয়েছে। কিন্তু আসল গোলমরিচের সঙ্গে অন্য বীজ মেশানো থাকলে তা শুধু স্বাদেরই ক্ষতি করে না, ভেজালে ক্ষতিকর উপাদান থাকলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। দানার গঠন, গন্ধ, প্যাকেটের তথ্য এবং বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা দেখে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু এক গ্লাস জলে গোলমরিচ ভাসছে নাকি ডুবছে, তা দিয়ে নিশ্চিতভাবে ভেজাল চেনা যায় না।

Leave a comment