নাজিরাবাদের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত্যুমিছিল থামছেই না। আগুনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গোডাউন এলাকা থেকে বৃহস্পতিবার আরও চারজনের হাড়গোড় উদ্ধার হতেই আতঙ্ক আরও গভীর হয়েছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, নতুন করে উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলি মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২৫।

উদ্ধারকাজ চলছেই, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও আতঙ্ক
দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী একাধিক জেসিবি ও আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালাচ্ছে। গোডাউনের ভিতরে জমে থাকা পোড়া ধাতু, কাঠ ও কেমিক্যালের স্তূপের নীচে এখনও মানবদেহ আটকে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া দেহাংশগুলিকে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মিসিং ডায়েরি ২৭, উদ্বেগে পরিবারগুলি
স্থানীয় থানায় এখনও পর্যন্ত ২৭ জন নিখোঁজের মিসিং ডায়েরি দায়ের হয়েছে। তাঁদের অনেকেই গোডাউনে কর্মরত শ্রমিক ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রতিটি নতুন উদ্ধার সংবাদে আতঙ্কে ভেঙে পড়ছেন নিখোঁজদের পরিবার। প্রশাসনের তরফে DNA পরীক্ষার ব্যবস্থার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।

কীভাবে আগুন লাগল? তদন্তে একাধিক দিক
প্রাথমিক তদন্তে শর্ট সার্কিট বা দাহ্য পদার্থ থেকে আগুন ছড়ানোর সম্ভাবনার কথা উঠে আসছে। তবে গোডাউনে নিরাপত্তা বিধি মানা হয়েছিল কি না, আগুন নেভানোর পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও দমকল বিভাগ। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে।
প্রশাসনের ভূমিকা ও ক্ষতিপূরণ প্রশ্নে চাপ
মৃতদের পরিবারগুলির জন্য ক্ষতিপূরণ, আহতদের চিকিৎসা এবং নিখোঁজদের সন্ধানে দ্রুত পদক্ষেপের দাবিতে চাপ বাড়ছে প্রশাসনের উপর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আগুন লাগার পর প্রথম দিকে উদ্ধারকাজে গতি ছিল না, যার জেরে প্রাণহানি বেড়েছে।

নাজিরাবাদে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধারকাজ চলাকালীন বৃহস্পতিবার গোডাউন এলাকা থেকে আরও চারজনের দেহাংশ পাওয়া গিয়েছে। এর ফলে এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ২৫। এখনও নিখোঁজ বহু, থানায় মিসিং ডায়েরি হয়েছে ২৭ জনের নামে।











