মাথার ভিতরে জীবন্ত ফিতাকৃমির লার্ভা! শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এমনই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের এক মহিলা। দীর্ঘদিনের মাথাব্যথা ও খিঁচুনির কারণ খুঁজতে গিয়ে চিকিৎসকেরা জানতে পারেন, তাঁর মস্তিষ্কে বাসা বেঁধেছে টেপওয়ার্মের লার্ভা। ঘটনাটি ফের আলোচনায় এনেছে নিউরোসিস্টিসারকোসিস নামের গুরুতর পরজীবীজনিত রোগকে।
কী ঘটেছিল ব্রিটিশ মহিলার সঙ্গে?
প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০০৭ সালে ভারত সফরে এসেছিলেন যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা লোরি ডেনম্যান। কয়েক বছর পরে তাঁর শরীর থেকে ফিতাকৃমি বের হতে দেখা গেলেও বিষয়টিকে প্রথমে গুরুত্ব দেননি। পরে তীব্র মাথাব্যথা ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষায় ধরা পড়ে, তাঁর মস্তিষ্কে একাধিক টেপওয়ার্ম লার্ভা ছড়িয়ে পড়েছে। অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
নিউরোসিস্টিসারকোসিস কী?
নিউরোসিস্টিসারকোসিস হল কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের একটি গুরুতর পরজীবী সংক্রমণ। Taenia solium বা শূকরের ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করে লার্ভায় পরিণত হলে তা রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছে সিস্ট তৈরি করতে পারে। এর ফলে স্নায়ুকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বিভিন্ন স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়।
কীভাবে শরীরে সংক্রমণ ছড়ায়?
অনেকের ধারণা, কম সিদ্ধ শূকরের মাংস খেলেই এই রোগ হয়। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, নিউরোসিস্টিসারকোসিস সরাসরি মাংস খাওয়ার কারণে নয়, বরং ফিতাকৃমির ডিম শরীরে প্রবেশ করলে হয়। দূষিত খাবার বা জল, শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত ভালোভাবে না ধোয়া কিংবা সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমে এই ডিম এক মানুষের শরীর থেকে অন্য মানুষের শরীরে ছড়াতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি দেখা দিতে পারে?
রোগের শুরুতে অনেক সময় কোনও উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে সংক্রমণ বাড়লে তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি, ভারসাম্যহীনতা, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া বা আচরণগত পরিবর্তনের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে দৃষ্টিশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা
নিউরোসিস্টিসারকোসিস নির্ণয়ের জন্য সাধারণত CT Scan বা MRI করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে রক্ত পরীক্ষাও করা হতে পারে। রোগের তীব্রতা অনুযায়ী অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক ওষুধ, অ্যান্টি-সিজার ওষুধ এবং প্রদাহ কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা হয়। কিছু ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হতে পারে।
ভারত সফরের কয়েক বছর পর এক ব্রিটিশ মহিলার মস্তিষ্কে ফিতাকৃমির লার্ভা ধরা পড়ে। চিকিৎসকদের মতে, তিনি নিউরোসিস্টিসারকোসিসে আক্রান্ত হন। এই রোগ কী, কীভাবে ছড়ায়, কী কী লক্ষণ দেখা দেয় এবং কীভাবে প্রতিরোধ সম্ভব—জানুন বিস্তারিত।













