অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনকে লক্ষ্য করে একটি নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ভিত্তিক ম্যালওয়্যার ব্যবহারকারীদের অজান্তে ফোনের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থেকে এটি সিস্টেমে অতিরিক্ত লোড তৈরি করে, যার ফলে ডিভাইসের গতি কমে যায়, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয় এবং ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য এই নতুন AI-ভিত্তিক ম্যালওয়্যার নিয়ে সতর্কতা জারি করেছেন। Dr. Web-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যালওয়্যারটি নীরবে ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থেকে বিভিন্ন বিজ্ঞাপনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ক্লিক করে, যার ফলে প্রসেসর ও RAM-এর উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ম্যালওয়্যারটি প্রচলিত উপায়ে সরাসরি তথ্য চুরি করে না। এটি ফোনে ইনস্টল থাকা অ্যাপ এবং ওয়েবসাইটে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন শনাক্ত করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেগুলিতে ক্লিক করতে থাকে। বাহ্যিকভাবে ফোন স্বাভাবিক মনে হলেও অভ্যন্তরীণভাবে সিস্টেমে অতিরিক্ত লোড জমা হতে থাকে।
এই ধারাবাহিক গোপন কার্যকলাপের কারণে প্রসেসর ও RAM-এর উপর চাপ বাড়ে, যার ফলে ফোনের গতি কমে যায়, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ডিভাইস অতিরিক্ত গরম হয়ে ওঠে। কয়েকজন ব্যবহারকারী হঠাৎ মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগও জানিয়েছেন।

Dr. Web-এর গবেষণায় প্রকাশ পেয়েছে যে এই AI ম্যালওয়্যারটি নিজেকে একটি সাধারণ অ্যাপ প্রক্রিয়ার মতো লুকিয়ে রাখে। সরাসরি সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ চোখে না পড়ায় ব্যবহারকারীরা দীর্ঘ সময় ধরে এর উপস্থিতি বুঝতে পারেন না।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে ম্যালওয়্যারটি বিশেষভাবে অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসকে লক্ষ্য করে তৈরি করা হয়েছে। এর নকশা এমনভাবে তৈরি যে এটি ব্যবহারকারীর আচরণ এবং স্ক্রিনে প্রদর্শিত কনটেন্টের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে, ফলে শনাক্ত করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঝুঁকি মূলত সংক্রমিত অ্যাপ ও APK ফাইলের মাধ্যমে ছড়াচ্ছে। Xiaomi-এর GetApps স্টোর এবং অন্যান্য থার্ড-পার্টি প্ল্যাটফর্মে এমন কিছু অ্যাপের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। অজানা ওয়েবসাইট থেকে APK ফাইল ডাউনলোড করে অ্যাপ ইনস্টল করা ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি।
একবার ফোনে ইনস্টল হয়ে গেলে এই AI ম্যালওয়্যারটি ক্রমাগত ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকে এবং ধীরে ধীরে ফোনের গতি, ব্যাটারি লাইফ এবং সামগ্রিক পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীরা এটিকে ডিভাইসের পুরোনো হয়ে যাওয়া বা স্টোরেজ সমস্যার কারণে হচ্ছে বলে ধরে নিয়ে উপেক্ষা করেন।










