কলকাতা: দ্বিতীয় বিয়ে ঘিরে তুমুল বিতর্কের মাঝেই অবশেষে মুখ খুললেন অভিনেতা ও বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। বিচারাধীন বিষয় নিয়ে মন্তব্য না করার সিদ্ধান্ত জানিয়ে আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেন তিনি। তবে তাঁর এই বক্তব্য ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে রাজ্য রাজনীতির অন্দরমহলে।

বারাণসীর ছবি ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত
সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় বারাণসীর এক ঘাটে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ের ছবি ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় জোর জল্পনা। সেই ছবি প্রকাশ্যে আসার পরই সরব হন তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায়। অভিযোগ ওঠে, আইনিভাবে ডিভোর্স না দিয়েই দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন অভিনেতা-বিধায়ক।

পুলিশের দ্বারস্থ প্রথম স্ত্রী ও কন্যা
এই অভিযোগের ভিত্তিতে অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর মেয়ে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অভিযোগে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের পাশাপাশি অবৈধ বৈবাহিক সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

দু’সপ্তাহের নীরবতা ভেঙে কী বললেন হিরণ?
দীর্ঘদিন নীরব থাকার পর অবশেষে প্রতিক্রিয়া দেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান,আমি কলকাতায় ছিলাম না, দীর্ঘদিন চেন্নাইতে ছিলাম। বিষয়টি বিচারাধীন। আদালতের অসম্মান করে কোনও মন্তব্য করতে চাই না।”এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্পষ্ট করেন, আপাতত আইনি পথেই বিষয়টির নিষ্পত্তি চান।
দ্বিতীয় পক্ষ ঋতিকার পাল্টা দাবি
এদিকে হিরণের কথিত দ্বিতীয় স্ত্রী হৃতিকা গিরিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ বিবৃতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, এই বিয়ে কোনও গোপন সম্পর্ক নয়, বরং দীর্ঘ পাঁচ বছরের সম্পর্কের স্বাভাবিক পরিণতি। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর বয়স ও সম্পর্ক নিয়ে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, অনিন্দিতাকে আগেই ডিভোর্সের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

রাজনীতি ও বিনোদন—দুই মহলেই চর্চা
একদিকে আইনি লড়াই, অন্যদিকে সোশ্যাল মিডিয়ার চাপ—সব মিলিয়ে হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত জীবন এখন রাজ্য রাজনীতিরও আলোচ্য বিষয়। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সরব হলেও শাসকদল এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

বারাণসীতে দ্বিতীয় বিয়ের ছবি সামনে আসতেই তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া। ডিভোর্স না দিয়েই ফের বিয়ের অভিযোগে সরব প্রথম স্ত্রী। অবশেষে নীরবতা ভেঙে আইনি অবস্থান স্পষ্ট করলেন হিরণ চট্টোপাধ্যায়।













