ডিজিটাল পরিবেশে অনলাইন অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা বজায় রাখা প্রতিটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে, তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ব্যাংকিং বা ইমেইল প্ল্যাটফর্ম যাই হোক না কেন। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি সতর্ক করেছেন যে দুর্বল পাসওয়ার্ড হ্যাকিং ঘটনার প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। ভারতসহ বিশ্বজুড়ে সাইবার জালিয়াতির ঘটনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে বিশেষজ্ঞরা কমপক্ষে ১২ থেকে ১৬ অক্ষরের শক্তিশালী ও ইউনিক পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন, যার লক্ষ্য ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, আর্থিক ডেটা এবং ডিজিটাল পরিচয় সুরক্ষিত রাখা।
সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ডের দৈর্ঘ্য অন্তত ১২ থেকে ১৬ অক্ষর হওয়া উচিত এবং এতে বড় ও ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা এবং বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় থাকতে হবে। এ ধরনের পাসওয়ার্ড প্রযুক্তিগতভাবে ভাঙা তুলনামূলকভাবে কঠিন, ফলে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা আরও জোরদার হয়। পাসওয়ার্ড যত বেশি জটিল ও অনন্য হবে, হ্যাকারদের জন্য তা ভাঙা ততই কঠিন হবে। স্মরণযোগ্য বাক্য, অনন্য শব্দ ও প্রতীকের সমন্বয় নিরাপদ এবং মনে রাখার উপযোগী বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়।
![]()
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে নাম, জন্মতারিখ, মোবাইল নম্বর বা 123456-এর মতো সাধারণ প্যাটার্ন ব্যবহার করা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ। হ্যাকাররা সাধারণত এ ধরনের সম্ভাব্য বিকল্প দিয়ে চেষ্টা শুরু করে এবং এই তথ্য প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্যান্য উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে সহজলভ্য থাকে। তাই পাসওয়ার্ডে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং এমন শব্দ ও অক্ষরের সমন্বয় বেছে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে যার সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্যের সরাসরি সম্পর্ক নেই।
একই পাসওয়ার্ড একাধিক প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করলে অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা দুর্বল হয়ে পড়ে। কোনো একটি ওয়েবসাইটে ডেটা ফাঁস হলে একই পাসওয়ার্ডের মাধ্যমে অন্যান্য অ্যাকাউন্টেও অননুমোদিত প্রবেশ সম্ভব হতে পারে। এ কারণে ব্যাংকিং, ইমেইল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য পৃথক পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এর পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করলে অতিরিক্ত সুরক্ষা যুক্ত হয়। এতে পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি ওটিপি বা অথেনটিকেটর অ্যাপের মাধ্যমে দ্বিতীয় ধাপের যাচাইকরণ প্রয়োজন হয়, ফলে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত থাকে। একাধিক শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নিরাপদভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার জন্য পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহারের বিষয়টিও কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।








