ফ্যাটি লিভার রোগ (NAFLD) বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বাড়তে থাকা এক বড় স্বাস্থ্যসমস্যা। স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের সঙ্গে এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন কেবল অতিরিক্ত তেল-ঘি বা অ্যালকোহলই এর জন্য দায়ী। তবে AIIMS ও হার্ভার্ড-প্রশিক্ষিত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট Dr. Saurabh Sethi সম্প্রতি জানান, প্রতিদিনের দু’টি নিরীহ দেখানো খাবারই লিভারে চর্বি জমার নেপথ্য খলনায়ক।
ফ্যাটি লিভার কী এবং কেন বিপজ্জনক?
ফ্যাটি লিভার তখনই হয় যখন লিভারের কোষে অতিরিক্ত ফ্যাট জমা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনও উপসর্গ থাকে না। তবে অবহেলা করলে ক্লান্তি, পেটের ডান দিকে অস্বস্তি, এমনকি লিভার সিরোসিসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। সুসংবাদ হল— সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনে পরিবর্তন আনলে এই সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট
সাদা ভাত, ময়দার রুটি, পাউরুটি বা বেকারি পণ্য— এগুলিকে বলা হয় রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট। এগুলি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় এবং ইনসুলিনের ওঠানামা ঘটায়। এর ফলেই শরীরে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ফ্যাটে রূপান্তরিত হয়ে লিভারে জমা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়ায়।
চিনি-যুক্ত পানীয়
কোল্ড ড্রিঙ্ক, প্যাকেটজাত ফলের রস, এনার্জি ড্রিঙ্ক— এই সব পানীয়তে উচ্চমাত্রার ফ্রুক্টোজ থাকে। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ সরাসরি লিভারে গিয়ে ফ্যাট তৈরিতে ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এই ধরনের পানীয় সেবন করলে লিভারে চর্বি জমার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
কী করবেন? সহজ পরিবর্তনেই উপকার
সাদা ভাত বা ময়দার পরিবর্তে ব্রাউন রাইস, আটার রুটি বা মিলেট বেছে নিন।
চিনি-যুক্ত পানীয়ের বদলে লেবু জল, নারকেল জল বা স্রেফ সাধারণ জল পান করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান।
ফ্যাটি লিভার এখন নীরব মহামারী। অনেকেই ভাবেন তেল-ঘি বা অ্যালকোহলই একমাত্র কারণ। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা দুটি সাধারণ খাবার— পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট ও চিনি-যুক্ত পানীয়— লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমার বড় কারণ হতে পারে। খাদ্যাভ্যাস বদলেই মিলতে পারে বড় সুরাহা।













