একদিকে দেশের অন্যতম নামী প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান IIT Bombay-র ডিগ্রি, অন্যদিকে বলিউডে একের পর এক প্রশংসিত ছবি পরিচালনার নজির। ‘রামায়ণ’-এর পরিচালক নিতেশ তিওয়ারির জীবনযাত্রা সত্যিই অন্য রকম। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে কর্মজীবন শুরু করলেও শেষ পর্যন্ত সৃজনশীল কাজের টানেই পেশা বদল করেন তিনি। তাঁর পরিচালিত ‘দঙ্গল’, ‘ছিছোড়ে’ এবং ‘বাওয়াল’ ইতিমধ্যেই দর্শকদের নজর কেড়েছে। কিন্তু জানেন কি, পরিচালকের কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল একেবারে অন্য পথে?
IIT Bombay থেকে মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিগ্রি
নিতেশ তিওয়ারি পড়াশোনা করেছেন দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান IIT Bombay-তে। ১৯৯৬ সালে এই প্রতিষ্ঠান থেকেই মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। তাঁর পড়াশোনার বিষয় ছিল মেটালার্জি ও মেটেরিয়াল সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং।অর্থাৎ, চলচ্চিত্র পরিচালনার জগতে আসার আগে তাঁর শিক্ষাগত ভিত্তি ছিল সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পেশায় দীর্ঘদিন আটকে থাকেননি নিতেশ। নিজের সৃজনশীল আগ্রহকেই পরবর্তী সময়ে কেরিয়ারের মূল দিশা করে নেন।
সফটওয়্যার সংস্থা থেকে বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায়
ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর একটি সফটওয়্যার সংস্থায় অল্প সময়ের জন্য কাজ করেছিলেন নিতেশ। এরপর লেখালিখি ও সৃজনশীল কাজের প্রতি আগ্রহ তাঁকে নিয়ে যায় বিজ্ঞাপন জগতেFCB Ulka, Lowe Lintas এবং Leo Burnett-এর মতো নামী বিজ্ঞাপনী সংস্থায় কাজ করেছেন তিনি। এমনকী Leo Burnett-এ চিফ ক্রিয়েটিভ অফিসারের দায়িত্বও সামলেছেন। বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর গল্প বলার ধরন, ভাবনা এবং সৃজনশীল দক্ষতাকে আরও পরিণত করে তোলে।
‘চিল্লার পার্টি’ দিয়ে বলিউডে আত্মপ্রকাশ
২০১১ সালে ‘চিল্লার পার্টি’ ছবির সহ-পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্র জগতে পা রাখেন নিতেশ তিওয়ারি। শিশুদের ঘিরে তৈরি এই ছবিতে চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ছবিটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা শিশুতোষ ছবির সম্মান পায়।এরপর ২০১৪ সালে অমিতাভ বচ্চন অভিনীত ‘ভূতনাথ রিটার্নস’ পরিচালনা করেন নিতেশ। ফ্যান্টাসি ও রাজনৈতিক ব্যঙ্গের মিশেলে তৈরি এই ছবির পর তাঁর কেরিয়ারে আসে বড়সড় পরিবর্তন।
‘দঙ্গল’ বদলে দেয় পরিচালকের কেরিয়ার
২০১৬ সালে মুক্তি পায় আমির খান অভিনীত ‘দঙ্গল’। গীতা ফোগাট ও ববিতা ফোগাটের কুস্তির জগতে উঠে আসার কাহিনি নিয়ে তৈরি এই স্পোর্টস ড্রামা বক্স অফিসে বিপুল সাফল্য পায়।এই ছবির হাত ধরেই পরিচালক হিসেবে নিতেশ তিওয়ারির পরিচিতি আরও বিস্তৃত হয়। ছবিটি তাঁকে ফিল্মফেয়ার সেরা পরিচালকের পুরস্কার এনে দেয়। এরপর ২০১৯ সালে মুক্তি পায় ‘ছিছোড়ে’। কলেজজীবন, বন্ধুত্ব, পরীক্ষায় ব্যর্থতা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি—এই বিষয়গুলি ছবিতে সুন্দরভাবে তুলে ধরেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ছবিটি সেরা হিন্দি ফিচার ফিল্ম বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পায়।এরপর ‘বাওয়াল’-এর মতো ছবিও পরিচালনা করেছেন নিতেশ। প্রতিটি ছবিতেই আলাদা ধরনের গল্প বলার চেষ্টা দেখা গিয়েছে তাঁর কাজে।
এবার বড় চ্যালেঞ্জ ‘রামায়ণ’
নিতেশ তিওয়ারির কেরিয়ারের অন্যতম বড় প্রকল্প হতে চলেছে ‘রামায়ণ’। ভারতীয় মহাকাব্যকে বড় পর্দায় তুলে ধরার এই ছবিতে রামের চরিত্রে রয়েছেন রণবীর কাপুর, সীতার ভূমিকায় সাই পল্লবী এবং রাবণের চরিত্রে যশ।এই বিশাল প্রকল্পের প্রস্তুতি নিয়েও রয়েছে বিস্তর আলোচনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছবির প্রি-প্রোডাকশনের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করেছেন পরিচালক। মহাকাব্যের বিভিন্ন দিক নিয়ে গবেষণা এবং পণ্ডিতদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন তিনি।
বলিউডের বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘রামায়ণ’-এর পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি শুধু দক্ষ গল্পকারই নন, পড়াশোনাতেও ছিলেন কৃতী। IIT Bombay থেকে মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিটেক পাশ করার পর সফটওয়্যার সংস্থা ও বিজ্ঞাপন জগতে কাজ করেছেন তিনি। পরে পরিচালনার জগতে এসে উপহার দিয়েছেন ‘দঙ্গল’, ‘ছিছোড়ে’-র মতো সফল ছবি।








