নয়ডা স্টেডিয়ামের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি ব্যবস্থা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর আওতায় এফডিআই (FDI) কোম্পানিকে স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে ফি ও বিভিন্ন চার্জ নির্ধারণের ক্ষেত্রে কোম্পানিকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হবে না এবং স্টেডিয়ামের ব্যবস্থাপনার ওপর নয়ডা প্রাধিকরণের নিয়ন্ত্রণ বহাল থাকবে।
প্রস্তাবিত ব্যবস্থার উদ্দেশ্য স্টেডিয়ামের ক্রীড়া সুবিধা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরিচালন ব্যবস্থা উন্নত করা। বেসরকারি কোম্পানির অংশগ্রহণের মাধ্যমে সুবিধা ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়া এবং সম্পদের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলোয়াড় ও শহরের সাধারণ মানুষের ওপর ইচ্ছামতো ফি আরোপ না হয়, সেটিও নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্টেডিয়াম পরিচালনার দায়িত্ব পেলেও কোম্পানি নিজস্ব সিদ্ধান্তে ক্রীড়া সুবিধার ফি বাড়াতে পারবে না। ফি-সংক্রান্ত যেকোনো পরিবর্তনের জন্য প্রাধিকরণের অনুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। এর মাধ্যমে খেলোয়াড়, প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী যুবক-যুবতী এবং অন্যান্য ব্যবহারকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
নয়ডা স্টেডিয়ামের বিভিন্ন ক্রীড়া সুবিধা বিপুল সংখ্যক খেলোয়াড় ও শহরের মানুষ ব্যবহার করেন। ফলে পরিচালনা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব এই ব্যবহারকারীদের ওপর পড়তে পারে। এ কারণেই প্রস্তাবে প্রাধিকরণের নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় কোম্পানিকে স্টেডিয়ামের দৈনন্দিন পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিভিন্ন সুবিধা পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও বেশি দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। এর বিনিময়ে কোম্পানিকে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে। প্রাধিকরণ সময়ে সময়ে পরিচালনা ব্যবস্থার তদারকি করতে পারবে।
ফি-সংক্রান্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোম্পানিকে একতরফাভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। কোনো ক্রীড়া সুবিধা, মাঠ, কোর্ট বা অন্য কোনো সেবার ফি বাড়াতে হলে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এর ফলে আকস্মিকভাবে ফি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে।
প্রাধিকরণ স্টেডিয়ামে উপলব্ধ সুবিধার মানোন্নয়ন এবং খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং ক্রীড়া সুবিধার প্রাপ্যতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বেসরকারি কোম্পানির পরিচালনায় স্টেডিয়ামের আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনাও আরও সুশৃঙ্খল হওয়ার আশা করা হচ্ছে। তবে এটি একটি জনসাধারণের সুবিধা হওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং ফি নির্ধারণের ওপর প্রাধিকরণের তদারকি অব্যাহত থাকবে।
স্টেডিয়াম ব্যবহারের নিয়মাবলীতেও আরও স্পষ্টতা আনার প্রয়োজন হবে। কোন সুবিধা কত ফিতে পাওয়া যাবে, বুকিং প্রক্রিয়া কী হবে এবং খেলোয়াড়রা কোন কোন শ্রেণিতে ছাড় পাবেন—এসব বিষয় নির্ধারিত শর্তে অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।
নয়ডা প্রাধিকরণের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকার অর্থ হলো, পরিচালনাকারী কোম্পানিকে নির্ধারিত নিয়ম এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী কাজ করতে হবে। কোম্পানি নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ না করলে প্রাধিকরণ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে সুবিধার মান এবং ফি। পরিচালনা ব্যবস্থা উন্নত হলে এবং ফি নিয়ন্ত্রিত থাকলে শহরের খেলোয়াড়রা এর সুফল পেতে পারেন। বিশেষ করে তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য উন্নত ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে এটি সহায়ক হতে পারে।
স্টেডিয়ামে আগত সাধারণ মানুষের জন্যও ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার ওপর জোর দেওয়া হতে পারে। অনলাইন বুকিং, সময়সূচি, সুবিধার প্রাপ্যতা এবং ফি-সংক্রান্ত তথ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হতে পারে।
তবে চূড়ান্ত ব্যবস্থা ও পরিচালনার শর্ত কার্যকর হওয়ার পরই পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে। এফডিআই কোম্পানিকে কীভাবে দায়িত্ব দেওয়া হবে, চুক্তির মেয়াদ কত হবে এবং কোম্পানিকে কী কী অধিকার দেওয়া হবে, তা সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর জানা যাবে।
বর্তমানে প্রস্তাবিত মডেলে বেসরকারি কোম্পানিকে পরিচালনার দায়িত্ব এবং নয়ডা প্রাধিকরণকে তদারকির ক্ষমতা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। এর মাধ্যমে একদিকে স্টেডিয়ামের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনায় বেসরকারি খাতের দক্ষতা কাজে লাগানো যাবে, অন্যদিকে ফি এবং জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাধিকরণের নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।
এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো স্টেডিয়ামের পরিচালনা উন্নত করার পাশাপাশি খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ না পড়া নিশ্চিত করা। কোম্পানি পরিচালনার দায়িত্ব নিতে পারলেও ফি বৃদ্ধি নিয়ে একতরফা সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না এবং চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ প্রাধিকরণের কাছেই থাকবে।








