রান্নাঘরে পেঁয়াজ মানেই স্বাদের জাদু। সালাদ থেকে তরকারি—সবখানেই তার উপস্থিতি। তবে এই পরিচিত সবজিই কিছু মানুষের শরীরে অস্বস্তির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শারীরিক অবস্থায় পেঁয়াজ কম খাওয়া বা এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

হজমের সমস্যায় ভুগছেন? সতর্ক থাকুন
যাদের ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে কাঁচা পেঁয়াজ বিশেষভাবে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। পেঁয়াজে থাকা কিছু ফারমেন্টেবল কার্বোহাইড্রেট (FODMAP) পেটে গ্যাস, ফাঁপা ভাব ও ব্যথা বাড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে অল্প পরিমাণে খাওয়া বা রান্না করা পেঁয়াজ বেছে নেওয়া ভাল।
অ্যালার্জি থাকলে ঝুঁকি বাড়তে পারে
কিছু মানুষের পেঁয়াজে অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, গলা জ্বালা, নাক দিয়ে জল পড়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ হতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অ্যালার্জির ইতিহাস থাকলে আগে থেকেই সতর্ক থাকা উচিত।

লো ব্লাড প্রেসার থাকলে বাড়তি সাবধানতা
পেঁয়াজ স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু যাদের রক্তচাপ আগেই কম, তারা অতিরিক্ত পেঁয়াজ খেলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা বা ক্লান্তি অনুভব করতে পারেন। তাই লো বিপি থাকলে নিয়ন্ত্রিত পরিমাণে খাওয়া প্রয়োজন।
অস্ত্রোপচারের আগে কেন এড়াবেন?
চিকিৎসকদের মতে, পেঁয়াজ রক্ত জমাট বাঁধার প্রক্রিয়ায় সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাদের শীঘ্রই অস্ত্রোপচার হতে চলেছে, তাঁদের কয়েক দিন আগে থেকেই পেঁয়াজ কমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে অপারেশনের সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঝুঁকি কম থাকে।

অতিরিক্ত খেলেই বাড়তে পারে অস্বস্তি
প্রত্যেকের শরীরের গঠন আলাদা। কেউ সহজেই পেঁয়াজ হজম করতে পারেন, আবার কেউ সামান্য খেলেই অস্বস্তি অনুভব করেন। তাই পেঁয়াজ খাওয়ার পর যদি নিয়মিত গ্যাস, পেটব্যথা বা অন্য সমস্যা দেখা দেয়, তা অবহেলা না করে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত।

পেঁয়াজ প্রতিদিনের রান্নায় অপরিহার্য হলেও সবার শরীরের জন্য সমান উপকারী নয়। হজমের সমস্যা, অ্যালার্জি, নিম্ন রক্তচাপ বা অস্ত্রোপচারের আগে থাকা ব্যক্তিদের পেঁয়াজ খাওয়ায় সতর্কতা দরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসর্গ বুঝে পরিমিত খাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।








