হালকা শিরশিরে অনুভূতি থেকে শুরু করে অসহ্য যন্ত্রণা—দাঁতের গর্তের উপসর্গ নানা রকম হতে পারে। অনেকেই প্রথমে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে ছোট গর্ত বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, প্রাথমিক অবস্থায় কিছু ঘরোয়া উপায় সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

কেন বাড়ছে দাঁতের গর্তের সমস্যা?
বর্তমান জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাস দাঁতের ক্ষয়ের বড় কারণ। অতিরিক্ত মিষ্টি খাওয়া, নিয়মিত ব্রাশ না করা, ফ্লস ব্যবহার না করা এবং মুখের সঠিক পরিচর্যার অভাব—এসব থেকেই দাঁতে প্লাক জমে। এই প্লাক থেকে তৈরি হয় অ্যাসিড, যা ধীরে ধীরে দাঁতের এনামেল ক্ষয় করে গর্তের সৃষ্টি করে।
প্রাথমিক উপসর্গগুলি কী কী?
দাঁতে ঠান্ডা বা গরম লাগা, শক্ত কিছু খেলে ব্যথা, কালো দাগ বা ছোট ছিদ্র দেখা যাওয়া—এসবই ক্যাভিটির প্রাথমিক লক্ষণ। অনেক সময় ব্যথা কম থাকায় রোগী বিষয়টি এড়িয়ে যান। কিন্তু ভিতরে ভিতরে সংক্রমণ বাড়তে থাকে, যা পরে রুট ক্যানেলের মতো বড় চিকিৎসার প্রয়োজন তৈরি করতে পারে।

সরষের তেল ও লবণ—কীভাবে কাজে দেয়?
প্রাচীনকাল থেকেই সরষের তেল ও লবণ দাঁতের যত্নে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। লবণের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ মুখের জীবাণু কমাতে সাহায্য করে। অন্যদিকে সরষের তেল মাড়ি শক্ত করতে সহায়ক। কয়েক ফোঁটা সরষের তেলের সঙ্গে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে আক্রান্ত দাঁতের উপর আলতো করে লাগালে সাময়িক ব্যথা কমতে পারে। দিনে এক থেকে দুইবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
লবঙ্গ তেলেও মিলতে পারে স্বস্তি
দন্ত বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গ তেলের ইউজেনল উপাদান ব্যথা উপশমে কার্যকর। তুলোর সাহায্যে অল্প লবঙ্গ তেল গর্তযুক্ত দাঁতে ১০-১৫ মিনিট রাখলে প্রদাহ কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়।

নিমপাতা ও গরম জলের কুলকুচি
নিমপাতা প্রাকৃতিক অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে পরিচিত। নিমপাতা জলে ফুটিয়ে সেই জল দিয়ে কুলকুচি করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া কমে। পাশাপাশি নুন-গরম জলে কুলকুচিও ব্যথা ও ফোলাভাব হ্রাসে সহায়ক হতে পারে।

কখন অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—যদি ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হয়, মাড়ি ফুলে যায় বা পুঁজ বেরোতে শুরু করে, তবে দেরি না করে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন। গভীর গর্তে ঘরোয়া পদ্ধতি কার্যকর নয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে দাঁত তোলার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

দাঁতের গর্ত বা ক্যাভিটির সমস্যা এখন প্রায় সব বয়সের মানুষের মধ্যেই বাড়ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সরষের তেল ও লবণসহ কয়েকটি ঘরোয়া উপায় ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে সমস্যা বাড়লে অবশ্যই দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।













