মুরগি কেনার পর শুধু জল নয়! এভাবেই পরিষ্কার করুন, নইলে বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি

মুরগি কেনার পর শুধু জল নয়! এভাবেই পরিষ্কার করুন, নইলে বাড়বে সংক্রমণের ঝুঁকি

বার্ড ফ্লু আতঙ্কে অনেকেই মুরগির মাংস কেনা নিয়ে দ্বিধায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে হ্যান্ডলিং ও রান্না করলে সংক্রমণের আশঙ্কা অনেকটাই কমানো যায়। সমস্যা শুরু হয় যখন আমরা ভুল পদ্ধতিতে কাঁচা মাংস ধুই বা রান্নাঘরে স্বাস্থ্যবিধি মানি না। তাই জেনে নিন নিরাপদ উপায়ে মুরগি পরিষ্কারের সঠিক নিয়ম।

শুধু জল দিয়ে ধুলেই কি জীবাণু সাফ?

অনেকে মনে করেন, কাঁচা মুরগি ভালো করে জল দিয়ে ধুলেই সব জীবাণু নষ্ট হয়। বাস্তবে, সাধারণ জল কেবল রক্ত বা দৃশ্যমান ময়লা সরায়, কিন্তু সালমোনেলা ও ক্যাম্পাইলোব্যাকটারের মতো ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে না। বরং সিঙ্কে ধোয়ার সময় জল ছিটকে রান্নাঘরের অন্য অংশে জীবাণু ছড়াতে পারে। তাই কাঁচা মাংস সরাসরি ধোয়ার বদলে সঠিকভাবে রান্না করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

প্যাকেট খোলার সময় কী করবেন?

প্যাকেটজাত মুরগির মোড়কেই অনেক সময় জীবাণু থাকতে পারে। তাই প্রথমেই প্যাকেট সাবধানে খুলে মাংসটি একটি পরিষ্কার পাত্রে রাখুন। ব্যবহৃত মোড়ক সঙ্গে সঙ্গে ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলুন। এরপর হাত সাবান ও উষ্ণ জলে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধুয়ে নিন।

কাটিং বোর্ড ও বাসনপত্রে সতর্কতা জরুরি

কাঁচা মুরগির জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ও ছুরি ব্যবহার করা উচিত। ব্যবহার শেষে গরম জল ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। রান্নাঘরের কাউন্টারটপ জীবাণুনাশক দিয়ে মুছে ফেলুন। এতে ‘ক্রস-কনটামিনেশন’ বা অন্য খাবারে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি কমে।

ভিনিগার-লেবু-লবণ কি কার্যকর?

ভিনিগার, লেবু বা লবণ জলে ভিজিয়ে রাখলে গন্ধ কিছুটা কমতে পারে, কিন্তু এগুলি সব ব্যাকটেরিয়া পুরোপুরি ধ্বংস করে—এমন প্রমাণ নেই। তাই এগুলিকে সহায়ক পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে, কিন্তু জীবাণুমুক্ত করার একমাত্র উপায় হিসেবে নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হল সঠিক তাপমাত্রায় সম্পূর্ণভাবে রান্না করা।

রান্নাই আসল সুরক্ষা

মুরগির মাংস অন্তত ৭৫° সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রায় সম্পূর্ণ সেদ্ধ করতে হবে। মাংসের ভেতরটা গোলাপি থাকলে বুঝতে হবে ঠিকমতো রান্না হয়নি। ভালোভাবে সেদ্ধ হলে তবেই সালমোনেলার মতো জীবাণু নষ্ট হয়।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

শিশু, গর্ভবতী মহিলা, প্রবীণ ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন ব্যক্তিরা সংক্রমণে দ্রুত অসুস্থ হতে পারেন। তাই এদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা জরুরি। রান্নার আগে ও পরে হাত ধোয়া এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।

কাঁচা মুরগির মাংস শুধু জল দিয়ে ধুলেই জীবাণু নষ্ট হয় না। সালমোনেলা ও ক্যাম্পাইলোব্যাকটারের মতো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটাতে পারে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি ও নিরাপদ প্রক্রিয়ায় পরিষ্কার ও রান্না করলেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

Leave a comment