টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি দর্শকের নজর, আর সেই মঞ্চে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। কিন্তু সেই ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অস্বস্তির পরিস্থিতি তৈরি করেছিল পাকিস্তান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ১০ দিনের মাথায় কেন ইউ-টার্ন নিতে হল? ‘Explained’-এ রইল ভিতরের গল্প।
বয়কটের ঘোষণা ও তার পটভূমি
ফেব্রুয়ারির শুরুতে পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছিল, তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ খেলবে না। বাংলাদেশের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানানো হয়। পাকিস্তানের দাবি ছিল, নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ দেওয়া অন্যায্য।
আইসিসির কড়া বার্তা
বয়কট ঘোষণার পর দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানায় আইসিসি। সংস্থার তরফে স্পষ্ট করে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী টুর্নামেন্টে এমন অবস্থান খেলাধুলার ন্যায্যতা ও প্রতিযোগিতার আত্মাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে অস্বীকৃতি জানালে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তান ক্রিকেটের উপর—এই সতর্কবার্তাই পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

দরজার আড়ালে আলোচনা ও চাপ
পরবর্তী কয়েক দিনে আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি), বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং অন্যান্য সদস্য দেশের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়। লাহোরে বৈঠকে স্পষ্ট করে জানানো হয়, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বাতিল হলে কেবল আইসিসিই নয়, একাধিক বোর্ড সম্প্রচার স্বত্ব ও স্পনসরশিপ থেকে বিপুল রাজস্ব হারাবে।
শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের ভূমিকা
এই ম্যাচ কলম্বোতে হওয়ার কথা। ফলে শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্পও সরাসরি লাভবান হওয়ার কথা ছিল। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড পিসিবিকে চিঠি দিয়ে অতীতের সহযোগিতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। পাশাপাশি বাংলাদেশও বৃহত্তর বিশ্ব ক্রিকেটের স্বার্থে পাকিস্তানকে বয়কট প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়।
অর্থনৈতিক বাস্তবতা সবচেয়ে বড় কারণ
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ শুধু আবেগের নয়, অর্থনীতিরও কেন্দ্রবিন্দু। অনুমান অনুযায়ী, ভারতের একটি বিশ্বকাপ ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য ১০–১১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সেই অঙ্ক সহজেই দ্বিগুণ করতে পারে। এই ম্যাচ বাতিল হলে আইসিসি, সম্প্রচারকারী সংস্থা ও স্পনসরদের বিশাল ক্ষতির মুখে পড়তে হত।
সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খোয়াজা লাহোরে পিসিবি ও বিসিবির সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বিষয়টি পৌঁছয় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের কাছে। সোমবার সন্ধ্যায় সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, বহুপাক্ষিক আলোচনার ফলাফল ও বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলির অনুরোধে পাকিস্তান জাতীয় দলকে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
শাস্তির আশঙ্কাও বাড়িয়েছিল চাপ
আইসিসি প্রকাশ্যে শাস্তির কথা না বললেও এটা স্পষ্ট ছিল—ম্যাচ না খেললে আর্থিক প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। এই সম্ভাবনাই পাকিস্তানের নীতিনির্ধারকদের অবস্থান পুনর্বিবেচনায় বাধ্য করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়ে চাপে পড়ে গিয়েছিল পাকিস্তান। আইসিসির কড়া অবস্থান, বিপুল আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা ও একাধিক দেশের কূটনৈতিক চাপের জেরে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় ইসলামাবাদ।













