ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি ক্রয় বাড়াচ্ছে

ভারত রাশিয়ান তেল আমদানি কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি ক্রয় বাড়াচ্ছে

ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি কমানো শুরু করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়াচ্ছে। এই পদক্ষেপের ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে এবং বাণিজ্যিক সম্পর্কের কাঠামোতে পরিবর্তন আসবে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (USTR)-এর প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার মঙ্গলবার বলেন, ভারত রাশিয়ান তেলের ক্রয় ধাপে ধাপে কমানো শুরু করেছে। তিনি জানান, ভারত যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি ক্রয় বৃদ্ধি করছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তন ভারতের জ্বালানি প্রয়োজনীয়তা বিভিন্ন উৎস থেকে পূরণের কৌশলের অংশ।

দীর্ঘ সময় ধরে রাশিয়া ভারতের প্রধান জ্বালানি সরবরাহকারী ছিল। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভারত মার্কিন বাজার এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানো শুরু করেছে।

ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারত একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য চুক্তির কাঠামোতে সম্মত হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় উভয় দেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে একাধিক পণ্যে আমদানি শুল্ক হ্রাস করবে।

এই চুক্তির ফলে ইলেকট্রনিক্স, কৃষিপণ্য এবং যন্ত্রপাতি খাতে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ সুবিধা পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

জানুয়ারি ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের রাশিয়ান তেল আমদানি কমে প্রায় ১২.১৫ লাখ ব্যারেল প্রতিদিনে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ এই পরিমাণ ছিল ১২.৫ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন। গত বছরের তুলনায়ও আমদানির পরিমাণ কমেছে।

ভারতের মোট তেল আমদানিতে রাশিয়ার অংশীদারিত্ব, যা একসময় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছিল, বর্তমানে ২৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

গ্রিয়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে একটি নির্ভরযোগ্য বাণিজ্য অংশীদার এবং ‘ফ্রেন্ড-শোরিং’-এর কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সরবরাহ শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা।

এই কৌশলের অংশ হিসেবে ভারত তার অর্থনৈতিক কার্যক্রম ও জ্বালানি নিরাপত্তাকে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।

ভারত যুক্তরাষ্ট্র থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়িয়ে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। ডলারভিত্তিক বাণিজ্য এবং মার্কিন স্থিতিশীলতার ওপর আস্থা বৃদ্ধিও এই নীতির অংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, জ্বালানি আমদানিতে বৈচিত্র্য আনলে মূল্যস্থিতি নিশ্চিত করা সম্ভব হতে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে ভারতের অবস্থান শক্তিশালী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির অধীনে একাধিক পণ্যে আমদানি শুল্ক কমানো হবে, যার ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রত্যক্ষ সুবিধা পেতে পারেন। ইলেকট্রনিক্স, কৃষিপণ্য এবং যন্ত্রপাতি খাতে বাণিজ্যিক কার্যক্রম বৃদ্ধি পেতে পারে।

 

Leave a comment