জ্বর—শুনতে সাধারণ মনে হলেও এই সময়ে অনেক ক্ষেত্রেই তা হয়ে উঠছে রহস্যময়। কয়েকদিন ধরে না কমা জ্বর, সঙ্গে কাশি, শরীর ব্যথা কিংবা শ্বাসকষ্ট—এসব উপসর্গ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। চিকিৎসকেরা স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, অজানা জ্বরে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া বিপদের কারণ হতে পারে।
জ্বর সব সময় নিরীহ নয়
সাধারণ ভাইরাল জ্বর সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে একদিনেই জ্বর কমে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এমন জ্বরের ঘটনা বাড়ছে, যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং প্রকৃত কারণ সহজে ধরা পড়ছে না।
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত সংক্রমণ
আইএলএস হসপিটালস, সল্টলেকের পরামর্শদাতা চিকিৎসক ডা. সর্বজিৎ রায় জানিয়েছেন, অজানা জ্বর নিয়ে আসা অধিকাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই ভাইরাসজনিত সংক্রমণের ইঙ্গিত মিলছে। উপসর্গ হিসেবে দেখা যাচ্ছে তীব্র জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা এবং কিছু ক্ষেত্রে শ্বাস নিতে অসুবিধা।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
সব রোগীর ক্ষেত্রে জ্বর সমানভাবে প্রভাব ফেলছে না। বিশেষ করে—
বয়স্ক মানুষ
যাঁদের আগে থেকেই ফুসফুসের সমস্যা আছে
হৃদরোগ বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতায় ভুগছেন
এই গোষ্ঠীর মধ্যে জ্বর দ্রুত জটিল আকার নিতে পারে। শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়া, সেকেন্ডারি সংক্রমণ বা সুস্থ হতে দীর্ঘ সময় লাগার ঝুঁকি বেশি।
প্যারাসিটামলেই ভরসা করলে বিপদ
অনেকে জ্বর হলেই বারবার প্যারাসিটামল খেয়ে ফেলছেন। চিকিৎসকদের মতে, এতে সাময়িকভাবে জ্বর কমলেও আসল সমস্যাটি ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন এমন চললে রোগের প্রকোপ বাড়তে পারে এবং চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়।
কোন লক্ষণ দেখলেই সাবধান হবেন
চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলি অবহেলা করা একেবারেই উচিত নয়—
টানা উচ্চ জ্বর
শ্বাস নিতে কষ্ট
বুকে চাপ বা অস্বস্তি
চরম দুর্বলতা
এই উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রতিরোধে টিকাই বড় ভরসা
ঝুঁকিপূর্ণ মানুষদের জন্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোকক্কাল (নিউমোনিয়া) সংক্রমণের বিরুদ্ধে টিকা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। এই টিকাগুলি রোগের তীব্রতা কমাতে এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস করতে সাহায্য করে।
অজানা জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। লাগাতার প্যারাসিটামল খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। প্রাথমিক লক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠী ও প্রতিরোধ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা দিলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।













