পালিতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও হুমকির জেরে বিষপ্রয়োগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ভাইয়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

রাজস্থানের পाली জেলায় পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও হুমকির অভিযোগে এক স্বর্ণব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। একই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং পরিজনরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও হুমকির অভিযোগে পীড়িত হয়ে বিষপান করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় পाली জেলার এক স্বর্ণব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে, একই ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ঘটনার পর পরিজন ও স্থানীয় সমাজের মানুষ All India Institute of Medical Sciences Jodhpur-এ ধর্নায় বসে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি রাজস্থানের পाली জেলার বাগড়ি নগর থানার করমাবাস পট্টা এলাকার। মৃত ব্যক্তির পরিচয় বিনোদ কুমার ওরফে বরদারাম (২৪) হিসেবে জানা গেছে। তিনি তাঁর ছোট ভাই বুধারাম (২২)-এর সঙ্গে সোনা-রুপোর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

পরিজনদের বক্তব্য অনুযায়ী, চেন্নাইয়ের একটি জুয়েলারি দোকানে চুরির মামলায় অভিযুক্ত কয়েকজনের সঙ্গে মৃতের অনলাইন লেনদেন ছিল। সেই সূত্রেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

পরিবারের অভিযোগ, চেন্নাই থেকে আসা পুলিশ দল ২১ এপ্রিল বরদারামকে স্থানীয় থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং একই দিনের রাতে তাঁকে ছেড়ে দেয়।

মৃতের স্ত্রী কিরণ দেবীর দাবি, পরের দিন এক জুয়েলার তাঁকে ডেকে পাঠায়, যেখানে সোনা দেওয়া এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। এই হুমকির ফলে তাঁর স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পরিজনদের দাবি, আত্মঘাতী পদক্ষেপ নেওয়ার আগে বরদারাম তাঁর ভাইয়ের মোবাইলে ভয়েস মেসেজ পাঠান, যেখানে পুরো ঘটনার বিবরণ ছিল। সেই বার্তা শোনার পর বুধারামও ভয় ও মানসিক চাপে বিষপান করে।

গুরুতর অবস্থায় দু’জনকে জোধপুরের এমসে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বড় ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং ছোট ভাইয়ের চিকিৎসা চলছে।

পালিতে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ ও হুমকির জেরে বিষপ্রয়োগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর মৃত্যু, ভাইয়ের আত্মহত্যার চেষ্টা

ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে পরিজন ও স্থানীয় সমাজের মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। তাঁদের দাবি, এই ঘটনার উচ্চস্তরের তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

পরিজনরা আরও অভিযোগ করেছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় মারধর ও জমি বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে মানসিক চাপ বেড়ে যায়।

মৃতের স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। এতে সংশ্লিষ্ট জুয়েলার ছাড়াও চেন্নাই পুলিশের কিছু কর্মী এবং অন্যান্য ব্যক্তির নাম রয়েছে।

তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনও কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তদন্তকারী সংস্থাগুলি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে।

তদন্তে যে বিষয়গুলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তা হলো:

জিজ্ঞাসাবাদের সময় অনুসৃত প্রক্রিয়া
কথিত হুমকির সত্যতা
ভয়েস মেসেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ
মৃত ও অভিযুক্তদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন

এই ঘটনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যপ্রণালী এবং নাগরিকদের অধিকার নিয়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় স্বচ্ছতা ও সংবেদনশীলতা বজায় রাখা প্রয়োজন, যাতে কোনও ব্যক্তির ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি না হয়।

 

Leave a comment